আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আবেগ আর বৈশ্বিক নজর। তবে এবার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই কেবল মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ক্রিকেট-কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক অনানুষ্ঠানিক মঞ্চে পরিণত হতে যাচ্ছে ম্যাচটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালীন বা তার ফাঁকেই এশিয়ার শীর্ষ ক্রিকেট বোর্ড প্রধানদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জয়শাহ ম্যাচ উপলক্ষে কলম্বোতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। তার উপস্থিতিই সম্ভাব্য আলোচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন হতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও ম্যাচটি সরাসরি দেখতে কলম্বো যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক কিছু ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, সূচি নির্ধারণ ও আয়োজক সংক্রান্ত বিষয়ে মতপার্থক্য সামনে আসে। তবে বুলবুল সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সম্পর্কের বরফ গলানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ক্রিকেটকে সামনে রেখে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।
বুলবুলের ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিসির পক্ষ থেকেই এশিয়ার পাঁচটি প্রধান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিদের একই ম্যাচে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য, বড় টুর্নামেন্টকে ঘিরে আঞ্চলিক বোর্ডগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা। যদিও তিনি নিজে বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি, তবে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এশীয় ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ের প্রশাসনিক টানাপোড়েন, সূচি জটিলতা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব কাটিয়ে নতুন করে সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের মতো উচ্চপ্রোফাইল আসরকে কেন্দ্র করে এমন বৈঠক হলে তা প্রতীকী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। মাঠের উত্তাপের বাইরে বোর্ড কক্ষের সম্ভাব্য এই আলোচনা ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, এশিয়া অঞ্চলের টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং আর্থিক কাঠামো নিয়েও নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, কলম্বোর এই ম্যাচ শুধু দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াই নয়; এটি এশীয় ক্রিকেট প্রশাসনের জন্যও একটি কৌশলগত মুহূর্ত। গ্যালারিতে দর্শকদের গর্জন আর মাঠে ব্যাট-বলের উত্তেজনার পাশাপাশি পর্দার আড়ালে চলতে পারে নীরব কূটনীতি-যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী দিনের এশীয় ক্রিকেটের সমীকরণে।
Leave a Reply