বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা না পেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন এমন গুঞ্জনের কেন্দ্রে এখন নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ আপাতত পুরোপুরি নির্ভর করছে নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের ওপর। ব্রাজিলের একাধিক প্রভাবশালী গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে নাম না থাকলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার চিন্তাভাবনা করছেন নেইমার। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নেইমার কিংবা তার এজেন্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি।
মিনিস্কাসে অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি তারকা। বয়সের কাঁটায় ইতোমধ্যে ৩৪ ছুঁয়েছেন ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড। সময়ের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপই হতে পারে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় মঞ্চ এ কথা তিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর সেই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে নেইমারের প্রত্যাশা ও চাপ দুটোই তুঙ্গে।
বিশ্বকাপের আর কয়েক মাস বাকি থাকলেও নেইমারের অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত। অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে পুরোপুরি ম্যাচ ফিট হতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সান্তোসে ফিরে এসে মাঠে নামলেও এখনও শতভাগ ফিটনেসে ফেরেননি এই তারকা। তবে চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর আগে আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন নেইমার কখনোই গোপন করেননি। বরং ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া তার ক্যারিয়ারের অন্যতম অপূর্ণ লক্ষ্য। ‘মিশন হেক্সা’ ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখতে চান তিনি। কিন্তু সেই চাওয়াই যে যথেষ্ট নয়, সেটাই পরিষ্কার করে দিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) বিশ্বকাপ মিশনের পূর্ণ দায়িত্ব তুলে দিয়েছে অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান কোচের কাঁধে। স্কোয়াড নির্বাচন থেকে শুরু করে কৌশল নির্ধারণ সবক্ষেত্রেই আনচেলত্তিকে দেয়া হয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বড় নাম বা তারকাখ্যাতির চেয়ে পারফরম্যান্স ও ফিটনেসই হবে তার একমাত্র মানদণ্ড।
এই জায়গাতেই মূল চ্যালেঞ্জে পড়েছেন নেইমার। সান্তোসে তার পারফরম্যান্স খারাপ বলা যাবে না। গেল মৌসুমের শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে ক্লাবের অবনমন ঠেকিয়েছেন তিনি। সেই হিসেবে আনচেলত্তির ‘গুডবুক’-এ থাকার কথা তার। কিন্তু কোচের প্রথম ও অটল শর্ত শতভাগ ফিটনেস।
কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ যদি ৮০ কিংবা ৯০ শতাংশ ফিটও থাকেন, তবুও তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হবে না। শুধুমাত্র পুরোপুরি ফিট খেলোয়াড়দের নিয়েই তিনি দল গড়তে চান। মিনিস্কাসের চোটের পর অস্ত্রোপচার করা নেইমার এখনো সেই মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেননি বলেই মূলত শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি নেইমারের সুযোগ। সামনে রয়েছে মার্চ উইন্ডো। বিশ্বকাপের আগে দল প্রায় চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এই দুই ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণ করার শেষ বড় সুযোগ দেখছেন নেইমার। সেখানে খেলার মতো ফিটনেস অর্জন করতে পারলেই খুলে যেতে পারে বিশ্বকাপের দরজা।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, নেইমার এখন একেবারে ‘স্ট্রেটলাইনে’ দাঁড়িয়ে। আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পেলে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। এমনকি সেই বিদায় বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আসতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
তবে সবই এখনও অনানুষ্ঠানিক। নেইমার কিংবা তার প্রতিনিধি কেউই এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। মাঠে ফেরা, ফিটনেস প্রমাণ এবং কোচের আস্থা অর্জন এই তিন পরীক্ষাই এখন নেইমারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণ হবে নাকি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর্দা নামবে তার উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।
Leave a Reply