সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ভোট পুনর্গণনা ও আব্বাসের শপথ বিরত রাখার আবেদন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ছায়া মন্ত্রিসভা: কী, কেন, কীভাবে উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট নেয়ার আগে সম্পদের হিসাব চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানাল ১১ দলীয় জোট দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ৫ হাজার ডলার ছাড়াল নতুন সরকার গঠনের আগেই শেয়ারবাজার চাঙ্গা রামপুরা হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ৪ মার্চ মাদুরোকে আটকের অভিযানে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্যের অবনতির খবরে উদ্বেগ, হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে ইমরান খানকে

স্বাস্থ্যের অবনতির খবরে উদ্বেগ, হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে ইমরান খানকে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতির খবরের পর পাকিস্তানে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই তারকা ক্রিকেটারের ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টি অবশিষ্ট থাকার তথ্য সুপ্রিম কোর্টে জানানোর পর বিরোধী দলগুলো তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। আর এর মধ্যেই সরকার ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়া ও মেডিকেল বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্সমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছেন, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিরোধী দলগুলো যখন পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তখন শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, ইমরান খানকে তার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তার স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে হাসপাতালে নেয়া এবং একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার মানবিকতা ও আইনগত বাধ্যবাধকতাকে অগ্রাধিকার দেয়। আইন অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দিকে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেয়া সরকারের দায়িত্ব। স্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পিটিআই যেন ভিত্তিহীন প্রচার বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা থেকে বিরত থাকে।
তারিক ফজল চৌধুরীর আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ইমরান খানের চলমান চোখের চিকিৎসার অংশ হিসেবে বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়কে রাজনৈতিক বক্তব্য বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রচারণায় রূপ না দেয়ার আহ্বান জানান তারার।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে গত বৃহস্পতিবার জানানো হয় যে ইমরান খানের ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টি অবশিষ্ট রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিটিআই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং দলটি ও তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি)-এর ব্যানারে বিরোধী আইনপ্রণেতারা ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট হাউস ও কেপি হাউসের সামনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। তাদের দাবি, ইমরান খানকে অবিলম্বে হাসপাতালে নেয়া হোক।
অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিটিএপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান আচকজাই। এতে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান, সিনেটর আলী জাফর, আসাদ কায়সার, জুনায়েদ আকবরসহ অন্য নেতারা অংশ নিয়েছেন।
পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক স্পিকার আসাদ কায়সার বলেন, সরকারের ঘোষণাকে তিনি স্বাগত জানালেও ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর এবং মেডিকেল বোর্ডে পারিবারিক চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম পার্লামেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।
টিটিএপি মুখপাত্র আখুনজাদা ইউসুফজাই বলেন, ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়া নীতিগত দাবি। তবে তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে স্থানান্তরের চেষ্টা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। পাশাপাশি মেডিকেল বোর্ডে পারিবারিক চিকিৎসক রাখার দাবি জানান তিনি।
অন্য এক বিরোধী নেতা বলেন, সরকারপক্ষের মন্ত্রীদের বক্তব্যে তারা আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে আচকজাই বলেন, ইমরান খানকে তার পরিবার ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চিকিৎসা সুবিধা না দেয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
এদিকে টিটিএপি এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় পিটিআই মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা বলেন, ইমরান খান ও তার ছেলেদের মধ্যে ফোনালাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়ার বিষয়ে ‘সদিচ্ছা’ রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে বিলম্ব কেন হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories