জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের আগেই পুঁজিবাজারে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চার দিনের বিরতির পর লেনদেন শুরু হতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেখা গেছে বড় উত্থান। লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক কেনার চাপের মুখে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স মুহূর্তেই শতাধিক পয়েন্ট বেড়ে যায়।
লেনদেনের প্রথম পাঁচ মিনিটেই অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা বা সার্কিট ব্রেকারে পৌঁছে যায়। বাজারে বিক্রেতা তুলনামূলক কম থাকায় অধিকাংশ শেয়ারের দর দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়। ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কর্মকর্তারা এটিকে নির্বাচনী অনিশ্চয়তা কাটার পর ‘রিলিফ র্যালি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন সরকারের সম্ভাব্য নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়ে আশাবাদ থেকেই বিনিয়োগকারীরা কেনার দিকে ঝুঁকেছেন। নির্বাচনের আগে টানা কয়েক মাস তারল্য সংকট, আস্থাহীনতা ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী সাইডলাইনে ছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর তারা আবার বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন।
লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ১৩০ পয়েন্ট বাড়ে এবং পাঁচ মিনিটে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৬ পয়েন্টে। তবে পরবর্তী সময়ে কিছু শেয়ারের দর বৃদ্ধির গতি কমে এলে সূচকের উত্থানও কিছুটা কমে আসে।
সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে, কমে ১৫টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ১৩টির। এ সময় ডিএসইএক্স সূচক ১১১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১১ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসই-৩০ সূচক ৪০ পয়েন্ট এবং শরিয়াহ্ সূচক ১৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এ সময় পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ১১৯ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনে অংশ নেয়া ৪৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৬টির এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ছাড়াও সুদহার নীতি, ডলারবাজার স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন সরকারের পদক্ষেপের দিকে এখন নজর থাকবে। এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলে বাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারা কিছুটা স্থায়ী হতে পারে।
তবে টেকসই উত্থানের জন্য করপোরেট মুনাফা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য বলে মত দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা থাকলে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল, তা স্পষ্ট করেছে—রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে গেলে পুঁজিবাজার দ্রুত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়। এখন দেখার বিষয়, এই উত্থান সাময়িক স্বস্তি নাকি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
Leave a Reply