সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন, ৩ নার্সকে বদলি স্বাধীন দেশে কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না : রাষ্ট্রপতি বিইউপি’র পশ্চিম ক্যাম্পাসে নবনির্মিত তিনটি ভবন উদ্বোধন সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠছে পে স্কেল, বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সাত নির্দেশনা সেপ্টেম্বর থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া নাফ নদীতে বিজিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ ৩ মাদক পাচারকারী আটক রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ডিএমপিতে রদবদল, নতুন দায়িত্বে ৮ ডিসি-এডিসি

খালিস্তানি নেতাকে হত্যা ষড়যন্ত্রে ‘র সংশ্লিষ্টতা’, ভারতীয়র দোষ স্বীকার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার

খালিস্তানি নেতা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিককে হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দোষ স্বীকার করেছেন এক ভারতীয় নাগরিক। এই ষড়যন্ত্রে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতার তথ্যও উঠে এসেছে। ফলে মামলাটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ৫৪ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্তা নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে এক ফেডারেল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারকের সামনে হত্যার ষড়যন্ত্র, ভাড়াটে খুনি নিয়োগের ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তার সাজা ঘোষণা করা হবে চলতি বছরের ২৯ মে। ধারণা করা হচ্ছে, সর্বোচ্চ ৪০ বছর কারাদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন তিনি।
মার্কিন প্রসিকিউটররা বলছেন, নিখিল গুপ্তা ভারত সরকারের একজন কর্মচারীর নির্দেশে নিউইয়র্কে বসবাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিককে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। আদালতের নথিতে ওই ব্যক্তিকে ‘ভিকটিম’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে খালিস্তানি আন্দোলনের পরিচিত মুখ ও ভারতে ঘোষিত সন্ত্রাসী গুরপতবন্ত সিং পান্নুন-এর নামই ব্যাপকভাবে আলোচিত।
ভারত সরকার পান্নুনকে দেশটির প্রধান সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তার সংগঠন ভারতে নিষিদ্ধ এবং আলাদা শিখ রাষ্ট্র ‘খালিস্তান’ গঠনের ডাক দিয়ে সহিংসতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ উসকে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখিল গুপ্তকে নিয়োগ দেন বিকাশ যাদব নামের একজন ব্যক্তি। তাকে ভারতের ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটের কর্মচারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আদালতের নথিতে। এই সংস্থার অধীনেই ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ পরিচালিত হয়। যাদবের নির্দেশে নিখিল গুপ্তা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে একজন ভাড়াটে খুনি খোঁজার চেষ্টা করেন।
তবে গুপ্ত জানতেন না যে, যাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন, তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি হত্যার বিনিময়ে ১ লাখ মার্কিন ডলার দেয়ার দরদাম করেন, অগ্রিম হিসেবে ১৫ হাজার ডলার নগদ দেয়ার ব্যবস্থা করেন এবং লক্ষ্যবস্তুর বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর ও দৈনন্দিন চলাফেরার বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেন। শেষ পর্যন্ত ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এই ষড়যন্ত্রটি ভেস্তে দেয়।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গুপ্তা একজন গোপন কর্মকর্তাকে ২০২৩ সালের জুনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরের সঙ্গে মিলে যাওয়া এড়াতে হত্যাকাণ্ড বিলম্বিত করতে বলেছিলেন। সেই মাসের শেষের দিকে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যার পর গুপ্তা অপেক্ষা না করে কাজ শেষ করতে বলেন ওই কর্মকর্তাকে।
এরপর গুপ্তাকে ২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্রে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০২৪ সালে তাকে নিয়ে আসা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। মামলার বিস্তৃত কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে, ভারত এই ষড়যন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত মার্কিন অভিযোগগুলো পরীক্ষা করার জন্য একটি উচ্চ-স্তরের অভ্যন্তরীণ প্যানেল গঠন করে।
সেই সময়ে, নয়াদিল্লি বলেছিল যে তারা অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তবে, রাষ্ট্রীয় মদদে অন্যায়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি। এদিকে গুপ্তার দোষ স্বীকারের বিষয়েও ভারত সরকার এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories