সময়ে সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে বিনোদনের প্লাটফর্ম। দর্শকরা ঘরে বসে স্মার্টফোন, স্মার্ট টিভি, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মাধ্যমে বিনোদনমুলক নানা আয়োজনের পাশাপাশি এখন নাটক ও চলচ্চিত্র দেখেন।
ঘরোয়া বিনোদনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে ইউটিউব। জীবনের নানামুখী চাপ সামলে মানুষ একটু স্বস্তি পেতেই বেছে নিয়েছেন এই প্ল্যাটফর্ম। বিনোদন অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকাশিল্পীরা সরব ইউটিউবেও। অনেক তারকাশিল্পী খুলেছেন নিজ নামে ইউটিউব চ্যানেল। যেখানে নিজের মতো ভিডিও বানিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন ইউটিউবে। এখন ইউটিউব ভিউ যে তারকার যত বেশি, সে তত জনপ্রিয়!
কে নেই এই ইউটিউব ভিউয়ের দুনিয়ায়! চিত্রনায়ক শাকিব খান, অনন্ত জলিল থেকে শুরু করে ছোট পর্দার অপূর্ব, আফরান নিশো, বিদ্যা সিনহা মিম, মেহজাবীন চৌধুরী, তানজিন তিশা, স্পর্শিয়া, সাফা কবির, নুসরাত ফারিয়া, মুমতাহিনা টয়া, সংগীতশিল্পী তাহসান খান, হৃদয় খান, ইমরান মাহমুদ, মিনার, পড়শীসহ অনেকে।
তদের প্রত্যেকেরই রয়েছে কোটি কোটি ভিউয়ের নাটক ও গান। ইউটিউব চ্যানেল ঘিরে দেশের পুরোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে কাজ শুরু করেছে। গড়ে উঠেছে অসংখ্য নতুন প্রতিষ্ঠান। লগ্নি হয়েছে হাজার কোটি টাকা।
দেখা গেছে, গড়ে প্রতিদিন প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পাঁচ থেকে ১০টি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করছে। যার বেশিরভাগই পুরোনো দিনের সিনেমা ও নতুন নাটক থেকে নেয়া। রয়েছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সংবাদ ক্লিপও।
২০১৭ সালে মিজানুর রহমান আরিয়ানের বড় ছেলে নাটকের একটি আবেগি ক্লিপ ব্যাপক ভাইরাল হয় ফেসবুকে। যদিও আগের সেই জায়গাটা এখন আর নেই। অনেকে আবার অভিযোগ উঠিয়েছে, বেশিরভাগ কনটেন্ট প্রোভাইডার এখন ছুটছেন সস্তা জনপ্রিয়তা আর সহজে টাকা আয়ের পথে।
বিষয়টি নিয়ে অপূর্ব জানান, পজিটিভ যেকোনো প্রমোশনই ভালো। দর্শকদের মধ্যে কাজটি সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করাই মূল কাজ।
মেহজাবিন বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, এই ট্রেন্ডটা সারা দুনিয়ায় চলছে এখন। টিভিতে একবার মিস হলে আর পুনপ্রচার ছাড়া দ্বিতীয়বার আর এই নাটকটি দেখা যায় না। কিন্তু ইউটিউবের মাধ্যমে আমরা এটি বারবার দেখতে পারছি। নিজেদের পছন্দমতো সময়ে নাটকটি দেখতে পারছি।

ইউটিউবের ভিউ নিয়ে আজিজুল হাকিম বলেন, আমি কোনো শিল্পী বা তার কাজকে ইউটিউব দিয়ে মূল্যায়ন করি না। অনেক ভালো গল্পের কাজ আছে, যার ভিউ একেবারেই কম। আবার অনেক বাজে কাজের ভিউ আছে কোটি। টিকে থাকতে হলো ভালো কাজ করতে হবে। না হলে হারিয়ে যেতে হবে।
ফারজানা ছবি বলেন, ইউটিউব দর্শক যত বেশি দেখেন, ততই ভিউ বাড়ে । কেউ বুস্ট করে ভিউ বাড়ান এমন খবরও আছে। তাই ডিজিটাল মাধ্যমের এই ভিউ নিয়ে আছে নানা কথা। বেশি ভিউ মানেই মানসম্মত তা কিন্তু নয়। খেয়াল করলেই দেখবেন, অনেক ভালো লেখকের অনবদ্য লেখার পাঠকের সংখ্যা যত, তারচেয়ে কয়েক গুণ চটুল বইয়ের পাঠক। সিনেমা, নাটক, টেলিছবির ক্ষেত্রেও এটা চোখে পড়বে। তাই কোন কাজের দর্শক কত- এটা প্রধান বিষয় হতে পারে না।

অরুণা বিশ্বাস বলেন, ভিউ কখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি না। কারণ বুস্টিং বা পাবলিসিটির মাধ্যমে ভিউ বাড়ানো যায়। যেজন্য এখন প্যাকেজিং ও মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে দর্শককে অনেক কিছু গেলানো হচ্ছে। এই প্রবণতা দিন দিন বাড়তে থাকে, তাহলে একসময় বাণিজ্যিক কাজই থেকে যাবে। তাতে করে শিল্পের মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
Leave a Reply