রাজধানীর গুলশানে শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ২ ছেলেসহ ৪ জনের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিরা হলেন- এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ২ ছেলে- সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরী এবং মেরিনা ইরশাদ ও আশিকুর রহমান।
আলোচিত এ মামলার ১৫ আসামির মধ্যে এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও রয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার মামলার দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজির হন। তবে সংসদ অধিবেশনের কারণে সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী আদালতে হাজির হতে পারেননি। এছাড়া অপর ৪ আসামি চট্টগ্রামে থাকায় তারা আদালতে আসেননি।
পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ২ ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে এ মামলা করেন প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ৬ তলা ভবন নির্মাণে প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম ‘সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের’ প্রোপ্রাইটার আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে চুক্তি করেন। পরের বছরের ১৯ ডিসেম্বর চুক্তি অনুযায়ী বাড়ি বুঝে পান তারা।
এরমধ্যে ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ শিল্পপতি মাইনুল ইসলাম মারা যান। এরপর থেকে সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। সেই সঙ্গে আসামিরা ‘জাল দলিল’ তৈরি করে বাড়ির দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।
Leave a Reply