গাজীপুরের টঙ্গীর দাঁড়াইল এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতীদলের সদস্য সচিব (সংগঠনের পরিচয় অনুযায়ী) মনোয়ার হোসেন খোকনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ছয়জনকে আটক করা হলেও তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে খোকন, তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম অন্তর এবং হোসেন বাদশার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গীর দাঁড়াইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী নির্মোহন মন্ডল জানান, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪০ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছে। ওই জমির ১৬ শতাংশ জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে এ অভিযোগে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। মামলার পর থেকেই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য মনোয়ার হোসেন খোকন ও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাত প্রায় ৮টার দিকে খোকনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নির্মোহন মন্ডলের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গ্রাইন্ডিং ও ড্রিল মেশিন ব্যবহার করে বাড়ির প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে।

এ ঘটনায় নির্মোহন মন্ডল (৪৬), তার স্ত্রী বৃষ্টি মন্ডল (৪০), ছেলে বিজয় মন্ডল (১৪), ভাতিজি চায়না (২২)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোরে ছয়জনকে আটক করা হয়। তদন্ত শেষে তিনজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রথমে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্তে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মনোয়ার হোসেন খোকন, আশরাফুল ইসলাম অন্তর ও হোসেন বাদশার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply