গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার এলাকার পাগাড় পাঠান পাড়া এলাকার বাসিন্দা দরিদ্র অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরীসহ তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় চাঁদাবাজদের অত্যাচার ও হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘর ছেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘পুলিশ কমিশনার’ বরাবর অভিযোগ দায়ের করার পর অভিযোগটির তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে টঙ্গী পূর্ব থানায় প্রেরণ করার দু-মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় পুলিশ কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন না করায় পরিবারটি বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ কমিশনার বরাবর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরী টঙ্গীর পাগাড় পাঠানপাড়া এলাকায় এক কাটারও কম জমি বৈধভাবে ক্রয় করে সেখানে টিনসেড ঘর তৈরি পূর্বক স্ত্রী পুত্র কন্যাদের নিয়ে বসবাস করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং রাজধানীর মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ১৬ নং কেবিনে ভর্তি চিকিৎসারত থাকা অবস্থায় একই এলাকার বাসিন্দা মৃত ওমর আলী মেম্বারের ছেলে চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী সেলিম, তার ছেলে পঙ্গু বাঁধনসহ তাদের সহযোগীরা মিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরীর স্ত্রীর নিকট ৪ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী এবং টাকা না দিলে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রর্দশন করে। দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরিবারের সদস্যদের ঘর ও বাড়ি থেকে জোরপূর্বক টেনে হেচড়ে রাস্তায় বের করে দেয় এবং টাকা নিয়ে আসতে বল্।ে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে ভয়ে ভীত হয়ে পরিবারের সদস্যরা ওইদিন মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরীর নিকট চলে যায়। দুইদিন পর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে আসার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন প্রকার অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং টিনসেড ঘরের দরজার সামনে দাড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলা ও গুম করার হুমকি দিয়ে অস্ত্রেও মুখে জিম্মি করে পূণরায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং ঘরে রক্ষিত মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এঘটনার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি রাজেন্দ্রপুরস্থ ক্যান্টনম্যান্ট এলাকার পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন একটি বাড়িতে ঘরভাড়া নিয়ে অতিকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

এঘটনার পর গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোসাদ্দেক আলীকে বিষয়টি জানানোর পর গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং টঙ্গী বাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা অফিসের এক বৈঠকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সেলিম এবং তার ছেলে বাঁধন ওরফে পঙ্গু বাঁধন এর চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনাকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরী জানান, সন্ত্রাসী সেলিম আমার স্ত্রীর কাছে ৪ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আর তার ছেলে পঙ্গু বাঁধন তিনদিনের মধ্যে মোটরবাইক কেনার জন্য ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। সন্ত্রাসী সেলিমে ছেলে বাঁধন পঙ্গু হওয়া সত্বেও নিজেকে সন্ত্রাসীদের গডফাদার দাবী করে এবং হুমকি দিয়ে বলে তার বাবা সেলিম এবং তার দাবীকৃত টাকা না দিলে আমাকে জানে মেরে ফেলবে। বর্তমানে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে আছি। তারা আমাকে আমার পরিবারের সদস্যদেরকে ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে অবৈধভাবে দখলে আছে। এবিষয়ে আমি গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ইং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘পুলিশ কমিশনার’ মহোদয় বরাবর অভিযোগ দায়ের করার পর অভিযোগটি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত ৬ মে উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাথ(দক্ষিন) বরাবরে প্রেরণ করলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মো. জিল্লুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) টঙ্গী পূর্ব থানাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু দু:খের বিষয় অভিযোগ দায়ের করার দু-মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার চৌধুরী আরো জানান, পাগাড় পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত ওমর আলী মেম্বারের ছেলে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী সেলিমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা. সাধারণ ডায়রী, অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিল্লুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply