বিপুল উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কানাডায় ১৫৯তম ‘কানাডা ডে’ পালিত হয়েছে। দেশটির জন্মদিনে পুরো কানাডাবাসীর মধ্যে ছিল দেশটির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। বছরের বেশির ভাগ সময় বরফাচ্ছন্ন থাকা কানাডার জন্মদিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে অনাড়ম্বর এই আয়োজনে যোগ দেয় প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।
কানাডার ইমিগ্রেশন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী পাড়ি দেয় কানাডায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কানাডার বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনি প্রক্রিয়া, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসা যোগাযোগব্যবস্থা, জীবনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীল অর্থনীতি, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থার কারণে দেশ হিসেবে বিশ্বের সবার কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কানাডার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। দিনটিকে ঘিরে সারাদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল কানাডার জন্মদিনের কেককাটা, ছোটছোট শিশু-কিশোরদের ফেসপিন্টর, জর্লি জাম্পসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা। এছাড়া কানাডার আদিবাসীদের শারীরিক কসরত ছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
দিবসটি উপলক্ষ্যে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের অনেক শহরের মধ্যে ছিল উপচেপড়া ভিড়। এ বছরে কানাডার ১৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে দেশপ্রেম, উদ্বেগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন কানাডার আলবার্টার অনেক বাসিন্দা। আসন্ন প্রাদেশিক বিচ্ছিন্নতা গণভোটের প্রেক্ষাপটে এবারের কানাডা ডে তাদের কাছে অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৯ অক্টোবর আলবার্টার ভোটাররা সিদ্ধান্ত দেবেন, প্রদেশটি কানাডার অংশ হিসেবেই থাকবে নাকি কনফেডারেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয় ও বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এ গণভোটকে সামনে রেখে মে মাস থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে এবং পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন সংগঠন জনমত গঠনে সক্রিয় রয়েছে।
কানাডার আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং কানাডাপন্থি উভয় পক্ষই কানাডা ডেতে আলবার্টাবাসীকে দেশের অতীত, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছে। কেননা আসন্ন গণভোটের ফলাফল শুধু আলবার্টার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, কানাডার জাতীয় ঐক্যের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply