গাজীপুরে সাংবাদিকদের উপরে একের পর এক হামলা করছেন সন্ত্রাসীরা। গাজীপুর চৌরাস্তায় হাজার হাজার মানুষের সামনেই সাংবাদিক তুহিন কে কুপিয়ে হত্যা করে কেটু মিজানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। সেই হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ না হতেই আবারও গাজীপুরের চৌরাস্তার পার্শ্ববর্তি বাইপাসের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এক সাংবাদিক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এবার হামলার শিকার হয়েছেন গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম কাজল খান। এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর চৌধুরী বাড়ি এলাকার শোভন চৌধুরী মার্কেটে অবস্থিত গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে প্রবেশের সময় এম কাজল খানের ওপর একদল সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়।
এম কাজল খান অভিযোগ করেন, শোভন চৌধুরী মার্কেটের স্বত্বাধিকারী আলহাজ হাফিজ উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপরে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলায় অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের মধ্যে নয়ন নামে একজন ছিলেন, যাকে তিনি মাদক ব্যবসা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের প্রতিবাদ করায় তার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন আলহাজ্ব হাফিজ উদ্দিন চৌধুরী হাজ্বী হলেও তিনি একজন সমকামীতা। আমি কোনভাবেই এই সমকামীতার বিষয় জানতে পারি, তার সহযোগী নয়নও একজন সমকামী। তাই দুই সমকামী মিলেই আমার উপরে হামলা চালান।
হামলার পর এম কাজল খান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বাসন মেট্রো থানায় গেলে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন অর রশিদের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ভয়ভীতি ও হামলামুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।এই সংস্করণটি সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী এবং অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করায় আইনি ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে।
এ বিষয়ে বাসন মেট্রো থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply