বেলারুশে পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেলারুশে স্থাপন করা এই ক্ষেপণাস্ত্র এখন থেকে ‘কমব্যাট ডিউটি’তে রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও নতুন এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা ওই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়ানোর মতো ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
সংবাদমাধ্যম পলিটিকো বলছে, অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়া হলেও কতটি ক্ষেপণাস্ত্র সক্রিয় করা হয়েছে কিংবা সেগুলো ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে— এ বিষয়ে কোনও বিস্তারিত জানায়নি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মধ্যম-পাল্লার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘণ্টায় প্রায় ১২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। আর এই কারণেই এই ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করা বেশ কঠিন।
মূলত বেলারুশে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের এই তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ইউক্রেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবনে হামলার উদ্দেশ্যে ৯১টি ড্রোন পাঠিয়েছিল বলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেছেন। কিয়েভ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের আলোচনাও এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
জেলেনস্কি বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, মস্কো একদিকে শান্তির কথা বললেও অন্যদিকে ইউক্রেনের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত বছর নভেম্বর মাসে ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি শিল্প এলাকায় ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া।
তখন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো বলেন, পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার সেনা অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি পুতিনের কাছে এ ক্ষেপণাস্ত্র তার দেশে পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন। পরে ১৮ ডিসেম্বর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পৌঁছানোর বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে এক বছর আগে পুতিন ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ব্যাপকভাবে শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রাশিয়া বলছে, বেলারুশে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি আগেই পরিকল্পনা করা ছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র সংশ্লিষ্ট লঞ্চ, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞদের ‘আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জামে’ পুনরায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং এরপরই তাদের কমব্যাট ডিউটিতে নামানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ওরোশনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মাইল (৫ হাজার ৫০০ কিমি) এবং এর গতি শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। রাশিয়ার দাবি, এটি প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত রাখতে এবং পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিয়ে পশ্চিমাদের চাপে রাখতেই পুতিন এই কৌশল গ্রহণ করেছেন।
Leave a Reply