মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা
সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানিকে নিয়ে একজন প্রভাবশালী ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে একাধিক মুসলিম ও মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা। খবর সিএনএন
মুসলিম প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা বলেছেন, ‘সিকোইয়া ক্যাপিটালের অংশীদার’ শন ম্যাগুইয়ার মামদানিকে ‘ইসলামপন্থি’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বলেন, তিনি (মামদানি) এমন একটি ‘সংস্কৃতি থেকে এসেছেন যারা সব কিছুতে মিথ্যা বলে।’
জুলাই মাসের শুরুতে, নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যে, মামদানি ২০০৯ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় নিজের জাতিসত্তা ‘এশীয়’ এবং ‘কালো বা আফ্রিকান আমেরিকান’ উভয়ই হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ম্যাগুইয়ার এমন মন্তব্য করেন। এ নিয়ে ম্যাগুইয়ার এক্সে পোস্ট করেন। যা গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৪৬ লাখ মানুষ দেখেছে।
এরপর ম্যাগুইয়ার সামাজিক মাধ্যমে আরও উসকানিমূলক পোস্ট করেন। যেখান তিনি মামদানির পাশাপাশি তার বাবাকেও আক্রমণ করে কথা বলেছেন। ম্যাগুইয়ার দাবি করেন- মামদানি সন্ত্রাসীদের পক্ষ সমর্থন করেন এবং বাবা-ছেলে দুজনেই ‘তৃতীয় ইন্তিফাদার জন্য খুবই উত্তেজিত।’ যদিও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানার জন্য মামদানির বাবা মাহমুদ মামদানির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে সিএনএন।
গত ৪ জুলাই ম্যাগুইয়ার ইসলাম বিদ্বেষী এমন মন্তব্য করার পর প্রযুক্তি খাতের অনেক সদস্য এবং মামদানির সমর্থকরা এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এ নিয়ে গত ৯ জুলাই ‘সিকোইয়া ক্যাপিটাল’ বরাবর একটি খোলা চিঠিতে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন। ওই চিঠিতে ম্যাগুইয়ারের মন্তব্যের নিন্দা জানানো হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া ও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবসায়িক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম রয়েছে, যদিও সিএনএন এসব স্বাক্ষর স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।
খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করা উপসাগরীয় অঞ্চলের ফিনটেক কোম্পানি তাব্বি’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হোসাম আরাব বলেন, ‘ম্যাগুইয়ারের মন্তব্য অনেকের মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কারণ তিনি কোনো অখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কাজ কারণে না। বরং তিনি সিকোইয়ার মতো প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন।
হোসাম আরাবের কোম্পানি সিকোইয়া ক্যাপিটালের ভারতীয় শাখা থেকে বিনিয়োগ পেয়েছিল, যা ২০২৪ সালে মূল কোম্পানি থেকে আলাদা হয়ে যায়।
আরাব আরও বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল দুনিয়ায় ম্যাগুইয়ার একমাত্র ব্যক্তি নন যিনি এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। তবে সম্ভবত তিনিই সবচেয়ে উচ্চস্বরে, প্রকাশ্যে এবং ধারাবাহিকভাবে এসব কথা বলেছেন।
মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাগুইয়ার সিএনএনকে একটি ৩০ মিনিটের ফলো-আপ ভিডিওর দিকে নির্দেশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ইসলামপন্থিরা মুসলিমদের মধ্যে একটি ক্ষুদ্রতম অংশ। তবে তিনি ভারতীয় বা মুসলমান, যারা ইসলামপন্থি নন তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যে চিন্তা করে টুইট করা হয়েছিল, অনেকেই সেটা বুঝতে পারেনি। আমি আসলে জোহরানকে একটি মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করতে চাচ্ছিলাম, যেটা আমার ধারণায় কেবল সমাজতন্ত্রের চেয়েও গভীর কিছু।’
বিষয়টি নিয়ে সিকোইয়া সিএনএনের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মামদানিও। তিনি নির্বাচিত হলে নিউইয়র্ক শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির অন্যতম প্রভাবশালী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান সিকোইয়া ক্যাপিটাল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে সাফল্য পাওয়া অ্যাপল, গুগল, এনভিডিয়া ও আরও বহু নামকরা কোম্পানিতে শুরুর দিকেই বিনিয়োগ করে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।
নিউইয়র্ক সিলিকন ভ্যালি থেকে অনেক দূরে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও দূরে হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা ম্যাগুইয়ারের মন্তব্যের নিন্দা করেছেন।
Leave a Reply