আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং তেলের দামে ঊর্ধ্বগতির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ঘিরে অচলাবস্থার বিষয়টিও মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এসবের আপাতত স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৬ দশমকিক ৭১ ডলারে নেমে আসে। জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭১৪ ডলারে দাঁড়ায়।
স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি কৌশল প্রধান ওলে হ্যানসেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘স্বর্ণ এখনও তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি অনুসরণ করছে। বর্তমান দরপতন বা স্থিতিশীলতা কাঠামোগত পরিবর্তনের চেয়ে সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার ফলেই হচ্ছে। আমাদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে স্বর্ণ।
অপরিশোধিত তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এর ফলে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়, কারণ এতে কোনও সুদ পাওয়া যায় না।
এদিকে রুপার দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৬৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৭ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৭০ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে, যা দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
Leave a Reply