শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার-২ ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট আমলের সব সার ডিলার বাতিল: চিফ হুইপ ইসির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিলের ঘোষণা মনিরা শারমিনের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নিলেন বিরোধী দলীয় নেতা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে, দেশে ভরি কত নতুন করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন প্রক্রিয়া বন্ধ চেয়ে আইনি নোটিশ কৃষি উৎপাদন খরচ কমাতে মাঠ পর্যায়ে ন্যানো-ইউরিয়া সারের সফলতা

পাইলটরা কেন মেঘের ভেতর দিয়ে বিমান উড়তে চান না

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫
  • ১৩১ বার

আমরা আকাশে বিমান দেখলে মুগ্ধ হই, মেঘের ফাঁকে উড়ে চলা বিমানকে রূপকথার মতো লাগে। কিন্তু আপনি কি জানেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে মেঘের মধ্যে দিয়ে বিমান চালানো কতটা বিপজ্জনক? মেঘের চমৎকার বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে বজ্রপাত, তীব্র ঝড়, টার্বুলেন্স, বরফ জমে যাওয়ার মতো ভয়ঙ্কর বিপদ। এই কারণেই পাইলটরা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে মেঘের ভেতর দিয়ে উড়তে চান না। ভারতীয় বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা দাক্ষেশ চৌহান ও এএলপিএ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন অনিল রাও এমনই কিছু তথ্য জানালেন, যা অনেক যাত্রীর কাছেই অজানা।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা দাক্ষেশ চৌহান জানান, মেঘের মধ্যে দিয়ে বিমান চালানো শুধু কঠিনই নয়, চরম ঝুঁকিপূর্ণও। কারণ বজ্রপাত বিমানের গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যেগুলো বিমানের ন্যাভিগেশন ও সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ক্যাপ্টেন অনিল রাও আরও কিছু তথ্য শেয়ার করেন। তিনি বলেন, মেঘ মানেই কেবল জলীয়বাষ্প নয়। এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ঝড়, বরফ, টার্বুলেন্স এবং ভয়াবহ দৃশ্যমানতার ঘাটতি। তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন পাইলটরা কেন ঝুঁকিপূর্ণ মেঘ এড়িয়ে চলেন:
দৃষ্টিশক্তির ঘাটতি: অনেক মেঘের মধ্যে এক ধরনের ঘন কুয়াশার মতো পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে পাইলট কিছুই দেখতে পান না। এমকি সামনে অন্য বিমান আসছে কি না সেটাও পাইলটরা দেখতে পান না। ক্যাপ্টেন রাও বলেন, পাইলট তখন শুধু যন্ত্রের উপর নির্ভর করে উড়তে বাধ্য হন, যা অনেক বেশি জটিল ও চাপপূর্ণ।
টার্বুলেন্স: বিশেষত বজ্রঘন মেঘ যেমন কিউমুলো-নিম্বাসের ভেতরে থাকে উল্লম্বভাবে বয়ে যাওয়া তীব্র এয়ার কারেন্ট। এ ধরনের মেঘের মধ্যে প্রবেশ করলে বিমানে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি তৈরি হয়। রাও বলেন, এই টার্বুলেন্স যাত্রীদের জন্য যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি নিয়ন্ত্রণ হারালে হতে পারে ভয়ানক দুর্ঘটনা।
বজ্রপাত ও ঝড়: বজ্রঝড়ের মেঘ থেকে বিদ্যুৎ, শিলা বর্ষণ এবং ভারী বৃষ্টিপাত হয়। বজ্রপাত বিমানের ইলেকট্রিক সিস্টেম নষ্ট করে দিতে পারে, যা প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল বিমানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হেলে পড়া বা ফাটল ধরা উইন্ডশিল্ডও মাঝআকাশে বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
বরফ জমে যাওয়া: ঠান্ডা মেঘে থাকা ক্ষুদ্র পানিকণা বিমানের ডানা, ইঞ্জিন এবং শরীরে জমে বরফে পরিণত হতে পারে। এতে বিমানের ওজন বেড়ে যায়, একই সঙ্গে এয়ারফ্লো ব্যাহত হয়। ফলে বিমানের উত্তোলন ক্ষমতা কমে যায় ও নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।
উইন্ড শেয়ার: কিছু মেঘের আড়ালে থাকে বাতাসের দিক বা গতির হঠাৎ পরিবর্তন একে বলা হয় উইন্ড শেয়ার। বিশেষ করে উড্ডয়ন বা অবতরণের সময় এমন পরিবর্তন বিমানের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। রাও বলেন, এটি এমন এক পরিস্থিতি যেখানে হঠাৎ বিমান উপরের দিকে উঠে যেতে পারে বা মাটির দিকে নামতে পারে যা ভয়ংকর বিপজ্জনক।
বিমান চলাচল শুধু আকাশে উড়োজাহাজ ওড়ানো নয় এটি প্রতিটি মুহূর্তে হাজারো হিসাব-নিকাশ আর সতর্কতার খেলা। আকাশের শান্ত, শুভ্র মেঘের আড়ালে যে বিপদের ছায়া লুকিয়ে থাকে, তা কেবল পাইলটদের অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়। তাই যখন কোনো ফ্লাইট একটু দেরি করে বা বেছে নেয় বিকল্প রুট, তখন বুঝে নেওয়া ভালো মেঘ শুধু সৌন্দর্য নয়, তার মাঝে থাকতে পারে ভয়ংকর এক অজানা আকাশ। পাইলটদের বিচক্ষণতাই আমাদের নিরাপদে পৌঁছে দেয় গন্তব্যে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories