শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার-২ ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট আমলের সব সার ডিলার বাতিল: চিফ হুইপ ইসির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিলের ঘোষণা মনিরা শারমিনের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নিলেন বিরোধী দলীয় নেতা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে, দেশে ভরি কত নতুন করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন প্রক্রিয়া বন্ধ চেয়ে আইনি নোটিশ কৃষি উৎপাদন খরচ কমাতে মাঠ পর্যায়ে ন্যানো-ইউরিয়া সারের সফলতা

সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ রাখলে যা ঘটে, স্ট্যানফোর্ডের গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫
  • ৪০ বার

অবিরাম স্ক্রল, নোটিফিকেশনের ঝাঁপটা, আর ভার্চুয়াল ‘পারফেক্ট’ জীবনের পেছনে ছোটা—এই হচ্ছে আজকের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন বাস্তবতা। এই প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে কিছু সময়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি নেয়া আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে কেমন প্রভাব রাখে সেটা নিয়ে একাধিক গবেষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে একটি গবেষণা করে। ৩৫ হাজার স্যোশাল মিডিয়া ইউজার সেই গবেষণায় অংশ নেয়। তাদের সবাইকে অর্থ দিয়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে বিরত থাকতে বলেন। আর এরপর আসে চমকপ্রদ তথ্য।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে জানা যায় গবেষণাটি প্রমাণ করেছে, ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে দূরে থাকার মাঝেই লুকিয়ে থাকতে পারে মানসিক প্রশান্তির চাবিকাঠি। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি করা গবেষণাটি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মানসিক প্রভাব নিয়ে এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল ট্রায়াল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই গবেষণায় ৩৫,০০০ জন ব্যবহারকারীকে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে বলা হয়। উদ্দেশ্য ছিল—সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কী প্রভাব পড়ে তা বিশ্লেষণ করা। যেভাবে গবেষণাটি পরিচালিত হয়: গবেষণাটি হয়েছিল ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগে। ব্যবহারকারীদের দুটো গ্রুপে ভাগ করে তাদের এক সপ্তাহ কিংবা ছয় সপ্তাহের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিষ্ক্রিয় রাখতে বলা হয়। এজন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সপ্তাহে ২৫ ডলার দেওয়া হয়। যারা ছয় সপ্তাহ নিষ্ক্রিয় থাকতে রাজি হন, তারা পান সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার।
গবেষণার অংশ হিসেবে ২০ হাজার ফেসবুক এবং ১৫হাজার ইনস্টাগ্রাম ইউজারদের নিয়মিত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হতো। প্রতিদিন কীভাবে সময় কাটিয়েছেন এবং তাদের মানসিক অবস্থা কেমন ছিল সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতেন অংশগ্রহণকারীরা।
গবেষণার ফলাফল: গবেষণার সবচেয়ে বড় চমক ছিল। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরত থাকার ফলে মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। যারা ফেসবুক ছয় সপ্তাহ বন্ধ রেখেছিলেন, তাদের মানসিক স্বস্তি এক সপ্তাহ বিরত থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি ছিল। ইনস্টাগ্রামের ক্ষেত্রেও ছয় সপ্তাহ বিরতিতে প্রায় ৪শতাংশ বেশি ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
গবেষণায় দেখা যায়, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৩৫ বছর ও তদূর্ধ্বরা সবচেয়ে বেশি স্বস্তি অনুভব করেছেন। অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১৮-২৪ বছর বয়সী তরুণীরা সবচেয়ে বেশি মানসিক উপকার পেয়েছেন। তবে ইনস্টাগ্রামে থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই অন্য অ্যাপে সময় ব্যয় করতে শুরু করেন। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে দৈনিক প্রায় ৯ মিনিট অতিরিক্ত সময় স্ক্রিন থেকে দূরে কাটান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রভাব তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও এই গবেষণা দেখিয়েছে যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাময়িক বিরতি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর হতে পারে। তবে আসল চ্যালেঞ্জ হলো—একটি স্ক্রিন বন্ধ করলেও আমরা প্রায়ই আরেকটিতে ঢুকে যাই। তবুও বলা যায়, একটি সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স আপনার মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories