বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ঘিরে প্রতারণার মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই এই খাতে জালিয়াতির কারণে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিটগেট কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৫ অ্যান্টি-স্ক্যাম রিসার্চ রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘বিটগেট’, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘স্লোমিস্ট’ ও ‘ইল্লিপিটি’-এর সহযোগিতায়।
প্রতিবেদন অনুসারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে স্ক্যামাররা এখন আরও বাস্তবধর্মী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। পুরনো দিনের ফিশিং ইমেইলের জায়গায় এখন এসেছে ডিপফেক ভিডিও, ভুয়া জুম কল এবং ম্যালওয়্যারযুক্ত চাকরির অফার।
আন্তর্জাতিক চক্র, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা
প্রতারণাগুলো আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশেষ করে নিচের তিনটি কৌশলই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির জন্য দায়ী:
ডিপফেক ইম্পারসোনেশন: ভিডিও কল বা বার্তার মাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তির মুখ বা কণ্ঠ নকল করে ফাঁদে ফেলা।
সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: বন্ধু বা অফিস সহকর্মী সেজে অর্থ বা অ্যাক্সেস হাতিয়ে নেয়া।
পনজি স্কিম বা প্রতারণামূলক প্রজেক্ট: উচ্চ রিটার্নের লোভ দেখিয়ে ডিফাই বা এনএফটি প্রকল্পের নামে অর্থ নেয়া, যা পরে ভেঙে পড়ে।
চুরি হওয়া অর্থ ব্লকচেইনের ক্রস-চেইন ব্রিজ ও মিক্সারের মাধ্যমে এমনভাবে স্থানান্তর করা হয় যে তা ট্রেস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতা বার্তা
বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ বাড়ছে, কারণ অনেকেই এটি ব্যাংক বা শেয়ারবাজারের বিকল্প হিসেবে দেখছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। নিরাপদ থাকতে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিচিত এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করুন: নতুন প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং বিটগেটের মতো সুপরিচিত এক্সচেঞ্জে লেনদেন করুন।
প্রকল্পের টিম সম্পর্কে জানুন: প্রতিষ্ঠাতারা বেনামী হলে বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকুন।
প্রাইভেট কি গোপন রাখুন: কেউ চাইলে ধরে নিন স্ক্যাম।
অতিরিক্ত ভালো অফার থেকে দূরে থাকুন: ‘আগে টাকা দিন, পরে পাবেন’ ধরনের অফার সন্দেহজনক।
চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নয়: দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার চাপ থাকলে সাবধান হোন।
স্ক্যাম ট্র্যাকার ও অডিট রিসোর্স ব্যবহার করুন: বিটগেট তাদের নিজস্ব অ্যান্টি-স্ক্যাম হাব চালু করেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা সচেতন হতে পারেন।
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নতুন চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এআই’র কারণে প্রতারণা আরও বাস্তব মনে হচ্ছে। স্ক্যামাররা এখন চ্যাটবট, কৃত্রিম চিত্র ও শব্দ নকল করে এমনকি বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট পর্যন্ত বানিয়ে ফেলছে, যা সহজে ধরার উপায় থাকছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমস্যার মূল কেন্দ্রে ক্রিপ্টো নয়, বরং সেটির অপব্যবহার। যথাযথ শিক্ষা ও সচেতনতা থাকলে প্রতারণা এড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ‘বিনিয়োগের আগে নিজে যাচাই করুন, উৎস যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে নিরপেক্ষ পরামর্শ গ্রহণ করুন।
Leave a Reply