সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ভবন জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ‘ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে যাও জ্বা-লিয়ে দেওয়া হলো ইউনুসের গ্রামীণ ভবন।। আলহামদুলিল্লাহ’ শীর্ষক ক্যাপশনে এমন তথ্যটি প্রচার করা হয়েছে। যেটি ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক মানুষ শেয়ারও করেছেন।
তবে কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে ভুয়া খবরটি প্রচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তথ্যের সত্যতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। প্রকৃত পক্ষে গ্রামীণ ভবন নামে কোনো স্থাপনা জ্বালিয়ে দেয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে দেশের কোনো গণমাধ্যম ছাড়াও বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ক্যাপশনে প্রচারিত পোস্টের কমেন্ট বক্সে প্রমাণ হিসেবে দেয়া ভিডিও যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওটি গ্রামীণ ভবনে আগুন দেয়ার নয়, বরং এটি রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের ভিডিও।
পরবর্তীতে ওই ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধানে দেশের একটি গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটে গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন গ্রামীণফোনের প্রাধান কার্যালয়ের সামনে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগের পাশাপাশি বকেয়া পরিশোধের দাবিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক একদল কর্মী। সেই বিক্ষোভের ভিডিওটিই ড. ইউনূসের গ্রামীণ ভবন জ্বালিয়ে দেয়ার দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মিরপুরের গ্রামীণ টেলিকম ভবন বা গ্রামীণ ভবন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তালাবদ্ধ করা হয়। ওই সময় সংবাদ সম্মেলনও করেন ড. ইউনূস। তবে গণমাধ্যমে এই ভবনটি সম্প্রতি জ্বালিয়ে দেয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সুতরাং, গ্রামীণ ভবন জ্বালিয়ে দেয়ার দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
Leave a Reply