বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন

পথ ছাড়লেন জামায়াত নেতাকর্মীরা, সাঈদীর মরদেহ পিরোজপুরের পথে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৩
  • ১৪৯ বার

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহবাহী গাড়ি অবশেষে পিরোপুরের পথে রওনা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে লাশবাহী গাড়িটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রওনা দেয়।
এর আগে সোমবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগে মারা যান সাঈদী।
তার মৃত্যুর পর লাশ ময়নাদতন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে তাতে সম্মতি দেওয়া হয়নি। পরে রাত ২টার দিকে লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা শাহবাগ এসে জড়ো হন। তারা ঢাকাতে একটা জানাজার দাবি করেন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাতে রাজি না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।
এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পথ আটকে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জামায়াত-শিবিরের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন। পরে ভোর ৫টার দিকে সাঈদীর লাশ বহনকারী গাড়িটি পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়।
এর আগে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে গত রোববার বিকেলে কারাগার থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওই রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ছিলেন। তিনি জামায়াতের রাজনীতির পাশাপাশি ওয়াজ করা বা ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ঢাকায় তাঁর শাহীনবাগের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। সেই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় সহিংসতায় অনেক মানুষ হতাহত হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তাঁর আপিলের ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেন ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। সেই রায়ে সাজা কমিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আপিল বিভাগের রায়ও পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। কিন্তু সেই আবেদনে আপিল বিভাগের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেই থেকে তাঁকে গাজীপুরে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছিল।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে জামায়াতে ইসলামী শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তিনি ১৯৮২ সালে জামায়াতের রুকন (দলটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য) হন। ১৯৮৯ সালে তিনি জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাঈদী ২০০৯ সাল থেকে জামায়াতের নায়েবে আমিরের পদে রয়েছেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories