গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েকগুন। আবার অনেকের বাসায় নিজেদের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিদিন ভিড় করছেন তাদের প্রিয় নেতার আস্তা কুড়াতে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির গাজীপুর মহানগর সভাপতি ও সাবেক স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজউদ্দীন এবং মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন অনেক আগে থেকেই এবং ব্যাণার ফেষ্টুন পোষ্টার প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের নাম দলীয় ভাবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাত পাখা মার্কা নিয়ে গাজীপুর ৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। এছাড়াও আওয়ামীলীগ সমর্থনে মনোনয়ন চেয়ে নিজেদের প্রার্থী ঘোষনা করেন, গাছা অঞ্চলের কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডল, এসবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন সরকার রুবেল, ক্যাপ্টেন (অব:) হারুন উর রশিদ চৌধুরী।
অপরদিকে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পূর্ব সিদ্ধান্তে এখনো অটল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার। ইতিমধ্যে বিএনপি সমর্থক সরকার শাহনূর ইসলাম রনি নিজেকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে গাজীপুর সিটিবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার পোষ্টার ও ফ্যাষ্টুন প্রকাশ করেছেন। ঘোষনা করেছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় এগিয়ে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র এ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, সাময়িক বরখাস্ত মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এ্যাড, আজমত উল্লাহ খান দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এব্যাপারে এ্যাড.আজমত উল্লাহ খান বলেন, একটি সূ-পরিকল্পিত সুন্দর নগর গড়ে তোলার জন্য আওয়ামীলীগ আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।
সাময়িক বরখাস্ত মেয়র এ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নানা কারণে ঠিক মতো কাজ করতে পারিনি। আমার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ পুনরায় আমাকেই মনোয়ন দেবে বলে প্রত্যাশা করছি।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, পরপর দু’বার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে আশা করি আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। আগামী ২৫শে মে ভোট গ্রহণ। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭শে এপ্রিল. বাছাই ৩০শে এপ্রিল এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ৮ই মে বলে জানিয়েছেন নির্বাচণ কমিশন।
Leave a Reply