ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রনি ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেও তাতে সায় দেয়নি স্টেশন কর্তৃপক্ষ। গেটের বাইরে অবস্থান নিয়ে তারা এ আবেদন জানান। অনুমতি না পাওয়ায় আবারও ঘোষণা দেওয়া হয় অবস্থানের। একপর্যায়ে জোর করে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে দূর থেকে দৌড়ে এসে কথা বলেন কমলাপুর স্টেশনমাস্টার আনোয়ার হোসেন।স্টেশনমাস্টার আনোয়ার হোসেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বলেন, আপনি শুধু ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। বাকিদের প্রবেশের অনুমতি নেই।
তার জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আমাদের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে চাই।তবে ডা. জাফরুল্লাহকে উত্ত্যক্ত করতে তার দিকে হ্যান্ড মাইক রেখে বলা হয়, টিকিট ছাড়া কেউ ভেতরে প্রবেশ করবেন না। টিকিট ছাড়া ভেতরে প্রবেশ আইনত দণ্ডনীয়।এসময় কাছ থেকে উচ্চশব্দে হ্যান্ড মাইকে কথা না বলার অনুরোধ করেন তিনি নিজেই। অন্য আন্দোলনকারীরা বলেন, স্যার অসুস্থ। একটু দূর থেকে মাইকে কথা বলুন। এর জবাবে আরএনবি সদস্যরা বারবার শব্দ করে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। আরএনবি সদস্যরা একে অপরকে দেখে হাসাহাসি করেন এসময়।আন্দোলনকারীদের একজন সুমন। তিনি বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে সঙ্গে করতে চান অথচ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এজন্যই কি তারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন? তাকে অপমান করার কী দরকার ছিল? তিনি তো শুধু কথা বলতে চেয়েছিলেন।
এদিকে তাদের অবস্থান কর্মসূচির ফলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী স্টেশনের ফটক বন্ধ করে দেয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন স্টেশনে আসা যাত্রীরা। তাদের বিকল্প পথ দিয়ে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে রেলওয়ের যাত্রী রোহান জানান, ফটক বন্ধের কারণে ভেতরে প্রবেশে ভোগান্তি হচ্ছে। গাড়ি প্রবেশের রাস্তা দিয়ে আমাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। যেখান দিয়ে প্রবেশে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।এদিকে আজও বাধার মুখে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঢুকতে পারেননি রনি ও তার সহযোগীরা। বিকেল ৪টার দিকে স্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে আসেন রনিসহ অন্য শিক্ষার্থীরা। তবে তারা ঢুকতে পারেননি। এরপর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে স্টেশনে আসেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মহিউদ্দিন রনিকে নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করার জন্য হুইল চেয়ারে বসে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় গেট।এসময় সাংবাদিকদের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি ভালো কাজের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকে। আমি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে এখানে এসেছি। প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত এখানেই অবস্থান নিয়ে থাকবো।এছাড়া রনির ৬ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীরা আসেন। স্টেশনের সবকটি ফটক বন্ধ থাকায় তারা স্টেশনের বাইরে রিকশাস্ট্যান্ড এলাকায় বসে পড়েন। সেখানে তারা দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে গতকাল (শনিবার) রনি ও তার সমর্থকরা মূল রাস্তা দিয়ে প্রবেশের পথেই অবস্থান নেন। তারা দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় কয়েকজন বখাটে যুবক কয়েকটি পচা ডিম নিক্ষেপ করে রনি ও তার সমর্থকদের ওপর। এতে রনির গায়ে না লাগলেও দুজনের শরীরে লাগে পচা ডিম। তাদের পোশাকে পড়ে ডিমের ভেতরের অংশ, মুহূর্তেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।এসময় মহিউদ্দিন রনি জানান, যতদিন দাবি আদায় না হবে, ততদিন তার এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে।গত ৭ জুলাই রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে হাতে শিকল বাঁধা অবস্থায় কমলাপুর স্টেশনে অবস্থান নেন মহিউদ্দিন রনি।
Leave a Reply