কক্সবাজারের চকরিয়া ডুলহাজারায় দ্রুতগতির পিকআপ চাপায় নিহতদের সেই আট ভাইয়ের পরিবারসহ ৪০ পরিবার পেলো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার মুজিববর্ষের ঘর।আজ বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন মোহনায় এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্টানের মাধ্যমে ওইসব পরিবারের মাঝে ঘরের চাবি, দলিল এবং খতিয়ান হস্তান্তর করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ছিলেন-কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) রাহাত উজ্জ জামান, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান জেসি চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাসির উদ্দিন, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্নাসহ অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তারা।
উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের গৃহহীন, হতদরিদ্র এবং বাস্তহারাদের পূর্ণবাসনের জন্য ঘর উপহার দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চকরিয়ায় তৃতীয় দফায় ডুলহাজারা ও পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪০ পরিবারসহ মোট ৬’শ ৮০ পরিবারের কাছে ঘর ,জমির দলিল ও খতিয়ান হস্তান্তর করেন।
আরও জানা যায়, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ডুলহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট নার্সারি এলাকায় মৃত পিতা সুরেশ চন্দ্র সুশীলের শ্রাদ্ধনুষ্টান পূর্বে ক্ষুদান্ন দান করে বাড়ি ফেরার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এসময় কক্সবাজারমুখি একটি দ্রুতগতির সবজি বোঝাই পিকআপ তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ছয় ভাই অনুপম সুশীল, নিরুপম সুশীল, দীপক সুশীল, স্মরণ সুশীল, চম্পক সুশীল ও রক্তিম সুশীল। এসময় গুরুতর আহত হন নিহতদের ছোট ভাই-বোন শাকী সুশীল এবং প্লাবন সুশীল। পরে এই পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী নগদ অর্থ এবং প্রতিটি নিহত ও আহত পরিবারের জন্য একটি করে ঘর উপহার হিসেবে দেন।
সরকারের পক্ষ থেকে ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত কন্ঠে প্লাবন সুশীল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষ যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার ঋণ কখনও শোধ করতে পারবোনা। আমরা এতোদিন সরকারি জায়গার উপর বসবাস করে আসছিলাম। আমদের একটা স্থায়ী ঠিকানা হলো।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় আমরা মাথাগুজার ঠাঁই পেয়েছি। তিনি আর্থিক থেকে শুরু করে সবধরনের সহযোগিতা করেছেন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, দেশের গৃহহীন, হতদরিদ্র ও বাস্তুহারাদের জন্য মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার হিসেবে সারাদেশের ন্যায় চকরিয়াতেও ইতোপূর্বে ৬’শ ৪০টি পরিবারের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ডুলহাজারায় সড়কে প্রাণ হারানো সেই আট পরিবারকেও এই প্রকল্পের অধিনে ঘরের চাবি, জমির দলিল এবং খতিয়ান হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৩২ পরিবারের কাছেও ঘরের চাবি, জমির দলিল এবং খতিয়ান হস্তান্তর করা হয়েছে।
ইউএনও জেপি দেওয়ান আরও বলেন, ডুলহাজারায় সড়কে প্রাণ হারানো সেই পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন সবসময় পাশে ছিলো। ভবিষ্যতেও এই পরিবারের পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
Leave a Reply