প্রযুক্তি ও উন্নয়নের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়া। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং শক্তিশালী অর্থনীতি সব মিলিয়ে দেশটি এখন বিদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম গন্তব্য। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের আশায় দেশটিতে পাড়ি জমান। তাদের মধ্যে একজন শিরীন সুলতানা পৃথিবী।
দক্ষিণ কোরিয়া নির্বাচনের কারণ নিয়ে জানতে চাইলে শিরীন সুলতানা পৃথিবী বলেন, এসএসসির পর তিনি কোন দেশে যাওয়া যায় সেটা নিয়ে ভাবতে থাকি। কিছু দেশে আবেদন করি এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিসা রিজেক্ট হয়। তখন অন্য কোথাও ট্রাই করা যায় কিনা দেখতে গিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সামনে আসে। আমি দেখলাম আমার সাবজেক্টে কিছু ভালো বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়াতে সিটিজেনশিপসহ অন্যান্য বিষয় সহজ। সবটা দেখে দেশটির টপ র্যাংকিংয়ে থাকা দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করি, ওফার লেটার আসা থেকে শুরু সবকিছুই খুব সহজে হয়ে যায়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে এখন সম্ভবনাময় বলেন অনেকেই। শিরীন সুলতানা পৃথিবীও এমনটাই ভাবেন। এর পেছনের কারণ আনতে চাইলে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়ের থেকে ব্যয় কম হয়। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের সুযোগও পান। নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক সময় পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী ওখানে থাকতে গিয়ে দেখবেন কিছু বিষয় হিসাব করলে কাজ করার সময় বাড়ানো যায়। এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া অনেক নিরাপদ। আর দেশটা অনেক সুন্দর। সব মিলিয়ে কোরিয়া দারুণ একটা দেশ।
কাজের অভিজ্ঞটা নিয়ে শিরীন সুলতানা পৃথিবী জানান, তিনি বাংলাদেশ থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। প্রথমে তিনি কোরিয়ার একটি পাঁচতারকা হোটেলের শেফ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। আর বর্তমানে তিনি পাঁচতারকা হোটেলে চাকরি করছেন। তিনি আরও বলেন দক্ষিণ কোরিয়াতে কাজ করতে গেলেও রেফারেন্স লাগে আর বাংলাদেশের কাজের অভিজ্ঞটা তাকে দারুণ সাহায্য করেছে।
জীবন যাত্রার মান নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের জীবনযাত্রা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। তবে সেখানে আয়ের সুযোগও বেশি অন্যান্য শহরের টুলনায়। এখানে প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম প্রায় ১৩,০০০ উওন পর্যন্ত আয় করা যায় যেটা বাংলাদেশি টাকায় ১৩০০ টাকার মত। একটি বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে প্রায় ৬০,০০০ টাকার মতো মাসিক খরচ হয়ে যায়। তবে জামানত হিসেবে প্রায় ২ মিলিয়ন উওন পর্যন্ত জমা দিতে হয়। ফলে শুরুতে খরচ কিছুটা বেশি মনে হতে পারে। তবে এই টাকা বাসা ছাড়লেই ফেরত পাওয়া যায়। প্রতি সেমিস্টারে টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। একজন শিক্ষার্থীর জন্য চার বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে সুপরিকল্পিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা জরুরি।
ভাষাগত বিষয় নিয়ে শিরীন সুলতানা পৃথিবী বলেন, ভাষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও দৈনন্দিন জীবন ও চাকরির ক্ষেত্রে কোরিয়ান ভাষা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী জানান, কোরিয়ান ভাষা শেখার সময় শুরুতে কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা যায়। টপিক লেভেল দুই বা তিন পর্যন্ত ভাষা দক্ষতা অর্জন করলে কাজের সুযোগ বাড়ে।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া একটি উন্নত, প্রযুক্তিনির্ভর ও সম্ভাবনাময় দেশ। তবে উচ্চ ব্যয়, ভাষাগত বাধা ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে যেতে হয়। পরিকল্পনা ও অধ্যবসায় থাকলে দেশটি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দিতে পারে।
Leave a Reply