কম-বেশি সব মানুষই ঘড়ি ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই বাম হতে পরে থাকেন ঘড়ি। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ঘড়ি পরার জন্য বাম হাতকেই কেন বেছে নেয়া হয়? ডান হাতে হয়তো খুব কম সংখ্যক মানুষকে ঘড়ি পরতে দেখেছেন। আর এখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনে আগের প্রশ্নটি ঘোরপাক খাচ্ছে―বাম হাতেই কেন ঘড়ি পরা হয়।
বাম হতে ঘড়ি পরা শুধু প্রচলিত কোনো ফ্যাশন বা অভ্যাস নয়। এর পেছনে একাধিক বাস্তব কারণ রয়েছে। যার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কার্যকারিতা ও সুরক্ষা। ঘড়ির স্ট্রাপ বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান ওয়াচ ব্যান্ড ইট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পুরুষদের বাম হাতে ঘড়ি পরাকে সঠিক বলে বিবেচনা করা হয়। সেখানে কেন বাম হাতে ঘড়ি পরা হয় এবং ডান হাতে ঘড়ি পরার বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
ডানহাতে ঘড়ি পরা:
অধিকাংশ মানুষ তাদের ঘড়ি অপ্রভাবশালী বা তুলনামূলক অকার্যকর হাতে পরে থাকেন। এর অর্থ হচ্ছে, বামহাতি ব্যক্তি তার ঘড়িটি ডান হাতে পরার প্রবণতা পোষন করেন। এ কারণে টিউডরের মতো ঘরির ব্র্যান্ডগুলো ‘বামহাতি মডেল’ ঘড়ি তৈরি করেছে। আবার ডানহাতি ঘড়িও রয়েছে। কারণ, অধিকাংশ মানুষ ডানহাতি হওয়ায় বাম হাতে ঘড়ি পরে থাকেন।
বাম হাতে ঘড়ি পরা নিয়ে তর্ক করলে হয়তো স্বাভাবিকভাবেই আপনি জয়ী হবেন। কারণ, অধিকাংশ ব্যবহারকারীই ডানহাতি। অর্থাৎ, এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাম হাতে ঘড়ি পরা আদর্শ হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ মানুষ যা করেন সেটি সহজেই আদর্শ হয়ে উঠে। তবে প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বাম হাতে ঘড়ি পরার কিছু বাস্তব সুবিধা রয়েছে।
ব্যবহারিক সুবিধা:
কার্যকর হাত দিয়ে অধিক সক্রিয়:
বাম হাতে ঘড়ি পরার এটিই প্রকৃত কারণ। আপনি যখন কার্যকর হাতটি অধিক বেশি পরিমাণ ব্যবহার করেন তখন এটি বেশি সক্রিয় থাকে। আপনি যদি ডানহাতি হয়ে থাকেন, তাহলে ডান হাত দিয়ে বেশি কাজ করা হয় বা হাতটি বেশি সক্রিয় থাকে। এ অবস্থায় যদি ঘড়িটি ডান হাতে থাকে, তাহলে তাতে আঁচড় পরা বা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কাজের ক্ষেত্রে ঘড়িটি বারবার বাধাগ্রস্ত করবে। কবজি মোচড়ানোও কঠিন হবে। সবমিলে অস্বস্তিকরবোধ করবেন। এ অবস্থায় বাম হাত তুলনামূলক কম কার্যকর থাকে এবং সেই হাতে ঘড়ি ব্যবহার করা হলে ঘড়ি ভালো থাকে এবং ডান হাতে কাজ করাও সহজ হয়।
সময় নির্ধারণ সহজ:
বেশিরভাগ ঘড়ির কাটা ডান দিকে থাকে। বাম হাতে ঘড়ি পরা হলে কাটা সহজেই অ্যাক্সেসযোগ্য হয়, ফলে সময় পরিবর্তন করা সহজ হয়। বিপরীতে, আপনি যদি ডান হাতে ঘড়ি পরেন, তাহলে হাতে ঘড়ি থাকা অবস্থায় সময় পরিবর্তন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, সময় পরিবর্তনের জন্য আপনাকে ঘড়িটি হাত থেকে খুলতে হবে। এ ক্ষেত্রেও বাম হাতে ঘড়ি থাকা সুবিধাজনক।
সময় দেখা সহজ:
আপনি একজন ডানহাতি ব্যক্তি হলে স্বাভাবিকভাবেই ডান হাত দিয়ে বেশি কাজ করা হয়। এর অর্থ, আপনার ডান হাত যখন ব্যস্ত থাকবে, তখন কাজের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করে সহজেই বাম হাতে থাকা ঘড়ি থেকে সময় দেখতে পারেন।
ঘড়ির নড়াজড়ার সুবিধা:
একজন ডানহাতি ব্যক্তি হিসেবে ডান হাত বেশি সক্রিয়, এ জন্য কাজের ঘড়ি যদি ডানে হাতে থাকে এবং তা অনিবার্যভাবে নড়াচড়া হয়, তাহলে কাজের ক্ষতি হবে। বিশেষ করে সব ধরনের কাজে ডান হাতের নড়াচড়ার প্রয়োজন হলে তা আপনার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হবে। আর সম্ভব হলেও এতে ঘড়ির ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে। উদাহরণ, আপনি যদি হাতুড়ি দিয়ে কিছু করতে যান এবং ডান হাতে যদি ঘড়ি থাকে, তাহলে ঘড়ির কারণে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগে বাধাপ্রাপ্ত হতে হবে। না হয় ঘড়িটি দ্রুত ক্ষয় হবে।
ঘড়ির সুরক্ষা:
ডান হাত দিয়ে বেশিরভাগ কাজ করার বিষয়গুলো উপরে আলোচনা করা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষই ডানহাতি। তারা ডান হাত দিয়েই বেশি কাজ করেন। এ কারণে তাদের বাম হাতে ঘড়ি পরা যুক্তিসংগত। দরজার হাতল, কাঁচি, কম্পিউটারের মাউস ও ঘড়ি, ইত্যাদি ডান হাতিদের কেন্দ্র করেই তৈরি। এ কারণে অনেক সময় বামহাতি হওয়ার পরও সারাদিন বিভিন্ন কাজের জন্য ডান হাতই বেশি ব্যবহার করা হয়। এ সময় ঘড়ি যদি ডান হাতে থাকে, তাহলে অল্পতেই আপনার পছন্দের ঘড়িটি ক্ষতি হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।
Leave a Reply