বর্তমান সময়ে অনেক অফিসেই কাজের গতি বাড়াতে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এতে আসলেই কাজ ঠিক মতো হচ্ছে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এবার এক গবেষণায় উঠে এলো কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে। নতুন এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ সংস্থা এই প্রযুক্তি থেকে তেমন কোনো বাস্তব মূল্য পাচ্ছে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে জানা যায়, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এক সমীক্ষা অনুযায়ী, গত এক বছরে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের হার প্রায় দ্বিগুণ হলেও ৯৫ শতাংশ সংস্থা এআই’তে বিনিয়োগের পরও পরিমাপযোগ্য কোনও সুফল পায়নি।
অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ, স্ট্যানফোর্ড সোশ্যাল মিডিয়া ল্যাব এবং বেটারআপ ল্যাব যৌথ গবেষণা করেছে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে। এই গবেষণায় জানা গেলে, অনেকেই এআই ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করছেন যা দেখতে ভালো হলেও কাজে তেমন অগ্রগতি আনে না। এই নিম্নমানের কাজকে গবেষকরা নাম দিয়েছেন ‘ওয়ার্কস্লপ’।
গবেষণা বলছে, সহজলভ্য এআই টুল দিয়ে কর্মীরা খুব সহজেই স্লাইড তৈরি করছেন, তথ্য থেকে খুব সহজেই রিপোর্টের পাশাপাশি একাডেমিক প্রবন্ধের সারাংশ বা ব্যবহারযোগ্য কোড তৈরি করছেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই কনটেন্ট অসম্পূর্ণ, প্রাসঙ্গিক তথ্যহীন এবং প্রকল্পের মূল কাজকে এগিয়ে নিতে অক্ষম। ফলে শেষ পর্যন্ত এই কনটেন্ট যাচাই, সংশোধন বা নতুন করে করতে হয়।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বেটারআপের চলমান জরিপে ১,১৫০ জন পূর্ণকালীন মার্কিন কর্মীর মধ্যে ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন, গত এক মাসে তারা অন্তত একবার ওয়ার্কস্লপ পেয়েছেন। তবে এর মধ্যে মাত্র ১৫.৪ শতাংশ কনটেন্টই আসল কাজে ব্যবহারযোগ্য ছিল। প্রায় ৪০ শতাংশ ওয়ার্কস্লপ সহকর্মীদের মধ্যে আদান–প্রদান হয়। গড়ে প্রত্যেক কর্মীকে প্রতিবার প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে এই কাজ ঠিক করতে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ওয়ার্কস্লপ ঠিক করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে।
Leave a Reply