বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীতে মাইশা হাসপাতালের মার্কেটিং কর্মকর্তার পাওনা টাকা না দিয়ে মারধর, অবশেষে টাকার বিনিময়ে থানায় আপোষ রাবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বহিরাগত নিয়ে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুসে ৪ ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল রিয়াল বিএনপিকে লাল সালাম দিলেন ন্যান্সি অ্যাপলের নেতৃত্বে নতুন মুখ ৫ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি আমি কখনোই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাইনি: আফরোজা আব্বাস যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষম হবে না: ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা গ্রহণযোগ্য কি না, স্পষ্ট করল ইরান পুলিশের পোশাকে ফের পরিবর্তন, ফিরছে গাঢ় নীল-অলিভ রং

টঙ্গীতে মাইশা হাসপাতালের মার্কেটিং কর্মকর্তার পাওনা টাকা না দিয়ে মারধর, অবশেষে টাকার বিনিময়ে থানায় আপোষ

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাইশা জেনারেল হাসপাতালে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হাসপাতালের মার্কেটিং কর্মকর্তা মিরাজ শেখ মারধরের শিকার হয়েছে খোদ হাসপাতালের মালিক ডা. মতিউর রহমান মতিয়ার দ্বারা। গুরুতর আহত মিরার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ করেন একই সাথে ডা.মতিয়ারকে মারধর করার অভিযোগে তিনিও থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে মিরাজ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত না করে আপোষের নামে ডা. মতিয়ার কর্তৃক আহত কর্মচারী মিরাজকে তার প্রাপ্ত দুই মাসের বেতন পরিশোধ ও তাকে চিকিৎসা করাতে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় আদায় করে দেন স্থানীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী পূর্ব থানার মাছিমপুর (আবেদ আলী সরকার বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা মোঃ মিরাজ শেখ (৪০) স্টেশন রোডে অবস্থিত মাইশা জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করে আসছে। হাসপাতালটির মালিক ডা.মতিউর রহমান মতিয়ার তাকে প্রথমে ৩৫ হাজার টাকা বেতন ধার্য করে মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে মাইশাতে চাকুরী দেন। কিছু দিন যাওয়ার পর কাজে গাফিলতির অভিযোগ এনে ১০ হাজার টাকা বেতন কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা ধার্য করেন, ততাপিও বিভিন্ন অজুহাতে গত মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন ও কমিশন বাবদ মোট ৭০ হাজার টাকা পাওনা পরিশোধ না করে ঘুরাতে থাকেন।
ভুক্তভোগী মিরাজ জানান, একাধিকবার পাওনা টাকা চাওয়ার পরও হাসপাতাল মালিক টাকা না দেয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে যান এবং সংসার চালাতে চরম দুর্ভোগে পড়েন। অবশেষে (২১ এপ্রিল ২০২৬) মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তিনি সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে তার প্রাপ্য টাকা দাবি করেন। থানায় দেয়া অভিযোগে মিরাজ লিখেন, টাকা চাইতেই হাসপাতালের মালিক মতিউর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনিসহ সঙ্গে থাকা কয়েকজন সহযোগী মিলে মারধধর করে আহত করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়চিকিৎসা দেয়া হয়। মিরাজ শেখ আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতাল মালিক মতিউর রহমান বিভিন্ন ধরনের মাদকাসক্ত, হাসপাতালে অভ্যন্তরে বসে মাদক সেবন করেন এবং প্রায়ই কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সরকারি ভাবে ডোপ টেস্ট করলে সত্যতা প্রমাণিত হবে।
এছাড়াও মারধরের ঘটনার পর তাকে এলাকায় বসবাস করতে না দেওয়া এবং সুযোগ পেলে বড় ধরনের ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমতাবস্থায়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে তিনি টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন এই মাইশা জেনারেল হাসপাতালে কয় দিন পর পর ভুল চিকিৎসা বিভিন্ন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তাছাড়া ডা. মতিয়ার নিজেকে সার্টিফিকেটধারী এনেস্থিসিয়া ডাক্তার দাবী করেন, আদৌ তিনি কি ওই বিভাগের ডাক্তার কি না এলাকাবাসীর মনে সন্দেহ বিরাজমান। তাছাড়া তিনি যদি এনেস্থিসিয়া ডাক্তার হয়ে থাকেন তবে তিনি সিজার বা অপারেশনের রোগীদের অজ্ঞান করবেন। কিন্তু তিনি নারী বা পুরুষসহ সকল প্রকার রোগীদের অপারেশন এবং গর্ভবতী মহিলাদের ডেলিভারি ও সিজার করে থাকেন। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর , জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারী বিধি নিষেধ বর্হিভুত হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি পরিচালনা, রোগীদের এসি ননএসি কেবিন ও সিট সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে অবৈধ এমআরডিএনসি করা থেকে শুরু করে টঙ্গী ২৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতালে একাধিক নামে মার্কেটিং কর্মকর্তা (দালাল) নিয়োগের মাধ্যমে দরিদ্র অসহায়সহ বিভিন্ন রোগীদের সংগ্রহ করে মাইশা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বদৌলতে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে রোগ নির্ণয়ের নামে প্যাথলজি বিভাগের অদক্ষ লোকদ্বারা ভূল রিপোর্ট প্রদান, ভূল চিকিৎসা সেবাদান করে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়াই তার মূল নেশা বা পেশা। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভূক্তভোগী রোগীসহ ডা. মতিয়ার কর্তৃক নির্যাতন নিপিড়নের শিকার পূর্ববর্তী একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী।
এ বিষয়ে ডা.মতিয়ার বলেন, মিরাজ বেতন পাবে হিসেব করে নিয়ে যাবে, আমিতো তার প্রাপ্য তাকে দিতে চেয়েছি, কিন্তু সে আমার কথা না শোনে বরং হাসপাতালে এসে আমাকে মারধর করেছে, আমি থানায় অভিযোগ করার পর স্থানীয় লোকজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মিলে বিষয়টি আপোষ করেছেন, মিরাজের বেতন পরিশোধসহ অতিরিক্ত কিছু টাকা দিয়েছি।
মিরাজ শেখ নিজেও আপোষ মিমাংসার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষ অভিযোগ দায়ের করার পর উভয় পক্ষ বসে বিষয়টি আপোষ করেছেন।
সথানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শ্রমিক বা কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা না দেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তাছাড়া ২৬০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী হাসপাতালের সামনে ৩শ গজের মধ্যে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো বৈধ অবৈধ ১৯/১২ টি প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়ানগিষ্ট, হাসপাতাল গড়ে উঠেছে, যাদের কোন নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা যায় এবং ভুক্তভোগীরা হয়রানিমুক্ত ন্যায়বিচার পেতে পারেন।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে উনাকে পাওয়া যায়নি।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories