টঙ্গীতে হাবিবুল্লা রাজা (২৬) নামে এক যুবককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী হাবিবুর রহমান শাওন ওরফে ভান্ডারী বাবুকে (২৮) গ্রেফতার করে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদনপূর্বক আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নুর নাহার বাদী হয়ে শনিবার ভান্ডারী বাবুকে প্রধান আসামী করে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর উত্তর আরিচপুরের মোশারফ হোসেন ও সাদিয়া বেগম দম্পতির ছেলে রাজা স্থানীয় একটি ডিপোতে কাজ করতো। বৃহস্পতিবার বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানা শাখার শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ভান্ডারী বাবু বাসা থেকে রাজাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। একইদিন রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে জানায় মোবাইল চুরির অপরাধে রাজাকে স্টেশনরোড পুলিশ বক্সের পাশে হাত-পা বেধে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে। পরে রাজার স্ত্রী ওই স্থানে গিয়ে মোবাইলের ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা দিতে চাইলে ভান্ডারী বাবুসহ অজ্ঞাত ৬-৭ যুবক তাতে রাজি না হয়ে রাজাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে রাত ১১টার দিকে ঢাকার আব্দুল্লাহপুরের দিকে নিয়ে যায়। এসময় তার স্ত্রী অটোরিকসায় উঠলে তাকে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে নামিয়ে দেয়। পরে রাত ১২টার পর থেকে সারা রাত খোঁজাখুঁজির পরও রাজার কোন খোঁজ খবর না পেয়ে হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে যায় তার স্ত্রী। রাতভর পাশবিক নির্যাতন করে রাজাকে হত্যার পর তার লাশ নিমতলী রেললাইনের পাশে সড়কের ঢালে ফেলে দেয়। পরদিন শুক্রবার সকাল নয়টায় অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে পুলিশ লাশ উদ্ধার করলে সিআইডি আঙুলের ছাপ নিয়ে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে রাজার স্ত্রীকে সংবাদ দিলে সে থানায় এসে তার স্বামীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ দাফন করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে ভান্ডারী বাবুকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, টঙ্গী পূর্ব থানা শাখার শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার এলাকায় সু-কৌশলে মাদক কেনা-বেচা, কিশোরগ্যাং সদস্যদের মদদ দেয়া, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ জাবেদ মাসুদ বলেন, রাজা হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী ভান্ডারী বাবুকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply