যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপি আগামী তিন বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর (এআই) প্রযুক্তি দ্রুত বিস্তার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রয়টার্স জানায়, ছাঁটইয়ের ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পরই মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) ক্যালিফোর্নিয়ায় তালিকাভুক্ত এইচপির শেয়ারের দাম প্রায় ৫.৫ শতাংশ কমে যায়।
এইচপির সিইও এনরিক লোরেস এক ব্রিফিংয়ে বলেন, জনবল কমানোর প্রভাব প্রধানত পণ্য উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম এবং গ্রাহকসেবা বিভাগে পড়বে। তিনি আরও জানান, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালের মধ্যেই প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার খরচ সাশ্রয় করতে পারবে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও পূর্বের পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও ১,০০০ থেকে ২,০০০ জন কর্মীকে বিদায় জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এনরিক লোরেস জানান, বাজারে এআই–সমর্থিত কম্পিউটারের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অক্টোবর শেষে কোম্পানির চতুর্থ প্রান্তিকে মোট বিক্রির ৩০ শতাংশেরও বেশি ছিল এআই পিসি। তবে বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধি ভবিষ্যতে উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ডিআরএএম ও ন্যান্ড মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধি ডেল, এসারসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডকে একইভাবে চাপের মুখে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত। এনরিক লোরেস আরও বলেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে। তবে প্রথমার্ধের বাজার মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
এদিকে ২০২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় ২.৯০ থেকে ৩.২০ ডলার হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এইচপি, যা বিশ্লেষকদের অনুমান ৩.৩৩ ডলারের নিচে। অক্টোবর শেষে সমাপ্ত প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৬.৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাজার প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা বেশি।
Leave a Reply