পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করতে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) চালু করেছে যুগান্তকারী ডিজিটাল উদ্যোগ গণ-পুলিশিং সার্ভিস।
প্রযুক্তি নির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে থানায় আগত প্রতিটি সেবা প্রার্থীর তথ্য, ছবি এবং সেবার অগ্রগতি এখন থেকে রিয়েল-টাইমে অনলাইনে সংরক্ষণ ও তদারকি করা যাবে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় আনুষ্ঠানিক ভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেন, গণ-পুলিশিং সার্ভিস এর মাধ্যমে থানায় আগত প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য ডিজিটালি নিবন্ধিত হবে এবং ছবি সংযুক্ত থাকবে। সেবা প্রার্থীর আবেদন কোন ধাপে আছে, কে দায়িত্বে রয়েছেন এবং কত সময় ধরে অপেক্ষমাণ-সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তিনি আরো বলেন, যদি কোনো আবেদন বা অভিযোগ নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি না হয়, সিস্টেমে সেটি পেন্ডিং হিসেবে প্রদর্শিত হবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে বিলম্বের কারণ, যা দাপ্তরিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
জনগণের আস্থা অর্জন ও পুলিশি সেবাকে আরও স্বচ্ছ, সময়োপযোগী এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে গণ-পুলিশিং সার্ভিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা চাই থানায় আগত প্রতিটি নাগরিক দ্রুত, সঠিক ও সম্মানজনক সেবা পাবেন বলে জানান, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার।
জিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগর পুলিশের আটটি থানার মধ্যে ছয়টিতে আজ এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। সেবা প্রার্থীরা সহজেই সেবা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বাকি দুটি থানায়-কোনাবাড়ী ও বাসন এ কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে থানার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা একসঙ্গে নিশ্চিত হবে বলে আশা করেন তিনি।
গণ-পুলিশিং সার্ভিস মূলত এক ধরনের রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম, যা পুলিশের মাঠপর্যায়ের সেবা প্রদানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট পুলিশিং ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এই উদ্যোগ জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডিসি (হেডকোয়ার্টার) জাহিদুল ইসলাম, ডিসি (অপরাধ-উত্তর) রবিউল হাসান, ডিসি (লজিস্টিকস) শফিকুল ইসলাম, সদর মেট্রো থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।
Leave a Reply