জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এসময় তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন, যেখানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনকে “সবচেয়ে বড় প্রতারণা” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী সিউলের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে উঠে আসে পরিবেশ রক্ষার দাবি এবং ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা।
অনেকেই মাস্ক ও সবুজ রঙের পোশাক পরে অংশ নেন, যা পরিবেশ রক্ষার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিউল ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন শহরে একই ধরনের ছোট ছোট সমাবেশ হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘মিথ্যা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া বৈজ্ঞানিক সত্যকে অস্বীকার করার সমান। এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, “ট্রাম্প জলবায়ু সংকটকে অস্বীকার করে আমাদের ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। আমরা নীরব থাকতে পারি না।
পরিবেশবাদীরা বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তারা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ, অথচ দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বই এই সংকটকে উপহাস করছে।
বিক্ষোভকারীরা দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কাছেও আহ্বান জানান যাতে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু বিষয়ক আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়। আয়োজকরা বলেন, বর্তমান নীতিমালা যথেষ্ট নয়, দেশটিকে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে রূপান্তরিত হতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন কেবল পরিবেশ ইস্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধেও একটি স্পষ্ট সামাজিক বার্তা। বিশ্বজুড়ে যেভাবে জলবায়ু সংকটকে অস্বীকার বা খাটো করে দেখা হচ্ছে, সিউলের এই বিক্ষোভ তার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী অবস্থান তৈরি করেছে।
Leave a Reply