টঙ্গীর কহর দরিয়া তুরাগ নদীর তীরে ৩১ জানুয়ারী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৫ সালে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। আগামীকাল ৩১ জানুয়ারী থেকে ২ ফেব্রুয়ারী এবং দ্বিতীয় ইজতেমা ৭ জানুয়ারী থেকে ৯ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতি কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা দলে দলে ময়দানে আসতে শুরু করেছে।
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষ্যে আইন শৃংখলা বাহিনী, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পানি, বিদ্যুৎসহ যোগাযোগা ব্যবস্থার সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
ইতিপূর্বে স্বরাষ্ট্্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সভায় বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, মাঠ হস্তান্তর, মাঠ প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত কমিটি গঠন, বিদেশি মেহমানদের ভিসা প্রদান, ভিভিআইপিদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন, বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ও পাশ্ববর্তী এলাকায় সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, কন্ট্রোল রুম স্থাপন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ, পানি সরবারহ ও পয়ঃনিষ্কাশন, মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেন বাস সার্ভিস, পলটুন ও ভাসমান ব্রিজ নিমার্ন কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ও জরুরি দুর্যোগ রোডে ব্যবস্থা গ্রহন, মুসল্লিদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা প্রদান, অস্থায়ী দোকানপাট ব্যবস্থাপনা, বস্তি ও অবৈধ স্থাপন উচ্ছেদ, ইজতেমাস্থলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিক্রয় মনিটরিং মাইক সম্প্রসারন, ইজতেমাস্থলে যাতায়াত ব্যবস্থা সর্ম্পকে জনগনকে অবহিতকরন, সিনেমার অশ্লীল পোস্টার, ব্যানার ফেসটুন অপসারন, আখেরী মোনাজাতের দিন যানজট নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহন, বিশ্ব ইজতেমায় নামাজ পড়ানোসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহন, মাঠ প্রস্তুতিকরন ইত্যাদি সম্পন্ন হয়েছে।
ইতিপূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে ইজতেমা সংত্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্বের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিত্বীয় পর্বের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ৭-৯ ফেব্রুয়ারি।
সূত্র অনুযায়ী : বিশ্ব ইজতেমা শব্দটি বাংলা ও আরবি শব্দের সম্মিলনে সৃষ্ট: আরবি ‘ইজতেমা’ অর্থ সম্মিলন-সভা বা সমাবেশ। বিশ্ব ইজতেমা বা বিশ্ব ইজতিমা কিংবা বিশ্ব এজতেমা, সাধারণত বৈশ্বিক যে কোনো বড় সমাবেশ, কিন্তু বিশেষ ভাবে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক বৈশ্বিক সমাবেশ বাংলাদেশে সোনাবানের শহর টঙ্গী’র এক সময়কার খরশ্রোতা কহর দরিয়া খ্যাত তুরাগ নদের তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে প্রতিবছর। আগে তাবলিগ জামাতের এই বার্ষিক মহাসমাবেশ এক পর্বে হলেও গত বেশ কয়েক বছর যাবৎ মাওলানা সাদ এবং মাওলানা যোবায়ের অনুসারীদের মধ্যে অভ্যন্তরিন কোন্দলের কারণে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দিল্লির মাওলানা সা’দ অনুসারীদের দ্বারা পরিচালিত হয় ৩দিন ব্যাপী এক পর্ব এবং কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা যোবায়ের অনুসারীদের দ্বারা পরিচালিত হয় ৩দিন ব্যাপী এক পর্ব। তাবলিগ জামাতের এই মহাসমাবেশটি হজে¦র পরে বিশ্বে সর্ববৃহৎ ইসলামিক মহা সম্মেলন “বিশ্ব ইজতেমা” নামে পরিচিত। এতে অংশগ্রহণ করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ লাখ লাখ মুসলমান। সাধারণত প্রতিবছর শীতকালে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ জন্য ডিসেম্বর বা জানুয়ারী মাসকে বেছে নেয়া হয়। যদিও ২০২৫ সালে ৫৮তম এই বিশ্ব ইজতেমা বা ইসলামি মহাসমাবেশটি জানুয়ারী মাসের শেষ দিন শুরু হয়ে ফ্রেব্রুয়ারী মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে চলবে।

সূত্র অনুযায়ী, ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রতিবছর ইসলামকি এই সমাবেশ নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার রমনা পার্ক সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বা ইজতেমা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। পরে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামে তৎকালীন হাজি ক্যাম্পে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। তারপর ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। তখন এটা কেবল ইজতেমা হিসেবে পরিচিত ছিল। এরপর প্রতিবছর ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে টঙ্গীর পাগার গ্রামের সোসাইটি মাঠ হিসেবে পরিচিত খোলা মাঠে ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছিলো। ওই বছর বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মগ্রাণ মুসলমানরা ইজতেমায় অংশ নেওয়ায় এটি ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান অবধি এই ‘বিশ্ব ইজতেমা’ সোনাবানের শহর বা টঙ্গী’র এক সময়কার খরশ্রোতা কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের উত্তর-পূর্ব তীর সংলগ্ন রাজউকের হুকুম দখলকৃত ১৬০ একর জায়গার বিশাল খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছর প্রতি পর্বে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম-শহর-বন্দর থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি দেশের তাবলিগি দ্বীনদার মুসলমান জামাতসহ ২৫ থেকে ৩০ লক্ষাধিক মুসল্লি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক ইসলামি মহাসম্মেলন বা বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিয়ে থাকেন।
জানা যায়, ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে মাওলানা ইলিয়াস [রহ.] ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুর এলাকায় ইসলামী দাওয়াাত বা তাবলিগের প্রবর্তন করেন এবং একই সঙ্গে এলাকা ভিত্তিক সম্মিলন বা ইজতেমা কিংবা ইজতিমা অথবা এজতেমার আয়োজন করেন। সেই সূত্র ধরে বাংলাদেশে ১৯৫০-এর দশকে তাবলিগ জামাতের প্রচলন করেন মাওলানা আবদুল আজিজ। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় মারকাজ বা প্রধান কেন্দ্র হলো রাজধানী ঢাকার কাকরাইল মসজিদ। বাংলাদেশের গাজীপুর মহানগরস্থ সোনাবানের শহর টঙ্গী’র কহর দরিয়া খ্যাত তুরাগ নদের তীরে বিশ^ ইজতেমা বা ইসলাম ধর্মের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের এই মহাসমাবেশটি কেন্দ্রীয় ভাবে রাজধানী ঢাকার কাকরাইল মসজিদ থেকে পরিচালনা করা হয়ে থাকে। পুরো সমাবেশের আয়োজনই করে থাকেন এক ঝাঁক ধর্মপ্রাণ মুসলমান স্বেচ্ছাসেবক। মহান আল্লাহর নামে অর্থ, সম্পদ ও শারীরিক সহায়তা দিয়ে প্রথম থেকে শেষবধি তারা এই সমাবেশকে সফল করতে সচেষ্ট থাকেন প্রতিবছর।
পুরো সমাবেশস্থলটি একটি উন্মুক্ত মাঠ, যা বাঁশের খুঁটির উপর চট লাগিয়ে ছাউনি দিয়ে সমাবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। শুধুমাত্র বিদেশী মেহমানদের জন্য টিনের ছাউনি ও টিনের বেড়ার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। সমাবেশস্থলটি প্রথমে খিত্তা ও পরে খুঁটি নম্বর দিয়ে জেলা ভিত্তিক ভাগ করা হয়। বিশ^ ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীগণ খিত্তা নম্বর ও খুঁটি নম্বর দিয়ে নিজেদের জেলার অবস্থান সনাক্ত করেন। তাছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলাওয়াারি মাঠের বিভিন্ন অংশ ভাগ করা থাকে। বিদেশী মেহমানদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা বেষ্টনীসমৃদ্ধ এলাকা থাকে, সেখানে মুসল্লি স্বেচ্ছাসেবকরা কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকেন, সেখানে কোনো সশস্ত্র বাহিনীর অনুপ্রবেশের অধিকার দেয়া হয় না। তবে বিদেশী মেহমানদের জন্য নির্ধারিত প্যান্ডেলের চারপাশে র্যাব, পুলিশ, ও আনসার সদস্যরা সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনসহ পূরো ইজতেমা ময়দানের চারপাশে বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর একাধিক ওয়াচ টাওয়ারসহ কয়েক হাজার আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য বিভিন্ন ভাবে দিনরাত ২৪ ঘন্টা লাখ লাখ মুসল্লীর নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করেন।
জানা যায়, সাধারণত তাবলিগ জামাতের অংশগ্রহণকারীরা সর্বনিম্ন ৩দিন আল্লাহর পথে কাটানোর নিয়ত বা মনোবাঞ্চা পোষণ করেন। সে হিসাবেই প্রতিবছরই বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতিবছর শুক্রবার আমবয়ান ও বাদ জুমা থেকে বিশ্ব ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়।
সূত্রটি জানায়, বিশ্ব ইজতেমা প্রথমে আ’ম বয়াান বা উন্মুক্ত বক্তৃতার মাধ্যমে শুরু হয় এবং লক্ষ লক্ষ মুসল্লীর আগমনে আখেরি মোনাজাত বা সমাপণী প্রার্থণার মাধ্যমে শেষ হয়। অনেক সময় সাধারণ মুসলমান বা মুসল্লীরা ইজতেমায় ব্যয় করেন না, বরং শুধু জুমা’র নামাজে অংশগ্রহণ করেন কিংবা আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। তবে সবচেয়ে বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলিম উম্মাহ অংশগ্রহণ করেন আখেরি মোনাজাতে। সেদিন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সরকার প্রধান (প্রধানমন্ত্রী), রাষ্ট্রপ্রধান (রাষ্ট্রপতি), বিরোধী দলীয় নেতাসহ অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতি, সচিব, আইনশৃংলা বাহিনীর প্রধানগনসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ আখেরি মোনাজাতে আলাদা-আলাদা ভাবে অংশগ্রহণ করেন থাকেন।
বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক সূত্র জানায়, সোনাবানের শহর টঙ্গী’র কহর দরিয়া খ্যাত তুরাগ তীরে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম গণজমায়তে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এবছর ২০২৫ সালের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারীতে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমা।

বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে চলাচল ও গাড়ি পাকিংয়ে ডিএমপির নির্দেশনা
দেশী বিদেশী লাখ লাখ ধর্মপ্রান মানুষের বিশ্ব ইজতেমায় যাতায়াত ও যথাস্থানে যানবাহন পার্কিং করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের [ডিএমপি] পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশনা রয়েছে বিদেশগামীদের জন্য।
ডিএমপির উপকমিশনার [মিডিয়া] তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপিÍতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, আখেরি মোনাজাতের দিন ভোররাত ৪টা থেকে আন্তজেলা বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অন্য ভারী যানবাহনগুলো আবদুল্লাহপুর ধউর ব্রিজ মোড় পরিহার করে মহাখালী-বিজয় স্বরণি- গাবতলী হয়ে চলাচল করবে। অনুরুপভাবে নবীনগর, বাইপাইল ও আশুলিয়া হয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে আগত যানবাহনগুলো কামারপাড়া-আবদুল্লাহপুর ক্রসিং পরিহার করে সাভার, গাবতলী দিয়ে চলাচল করবে অথবা ধউর ব্রিজ ক্রসিং হয়ে মিরপুর বেড়িবাধ দিয়ে চলাচর করবে। ঢাকা থেকে এয়ারপোর্ট রোড দিয়ে আগত যানবাহনগুলো কুড়িল ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে প্রগতি স্বরণি হয়ে অথবা বিশ^রোড ক্রসিং [নিকুজ্ঞ-১ [কেচি গেট] দিয়ে ইউটার্ন করবে। ভোর ৪টা থেকে ৩০০ফিট দিয়ে আগত যানবাহনগুলো কুড়িল ফ্লাইওভার লুপ-৪ [কাকলী-মহাখালীগামী] ব্যবহার করবে। কোনোভাবেই বিমানবন্দরের সড়ক ব্যবহার করা যাবে না। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাওলা-এয়ারপোর্টগামী এক্রিট পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, উত্তরার বাসিন্দা, বিমানযাত্রী, বিমান অপারেশনাল যানবাহন ও বিমান ক্রু বহনকারী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ী ও অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সব ধরনের যানবাহনের চালকের বিমানবন্দর সড়ক পরিহার করে বিকল্প হিসাবে মহাখালী- বিজয় স্বরণি হয়ে মিরপুর-গাবতলী সড়ক ব্যবহার করবেন। ঢাকা মহানগর থেকে যেসব মুসল্লি হেটে বিশ্ব ইজতেমাস্থলে যাবেন, তারা তুরাগ নদের ওপর নির্মিত পলটুন ব্রিজ অথবা কামাপাড়া ব্রিজ দিয়ে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে যাতায়াত করবেন। বিদেশগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরে আনা-নেওয়ার জন্য আখেরী মোনাজাতের দিন পদ্মা ইউলুপ এবং কুড়াতলী লুপ-২ এবং নিকুজ্ঞ-১ গেট থেকে ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের জন্য পরিবহন সেবা দেওয়া হবে। নির্ধারিত পার্কিং স্থানে মুসল্লিবাহী যানবাহন পার্কিংয়ের সময় অবশ্যই গাড়ির চালক বা হেলপার গাড়িতে অবস্থান করবেন এবং বহনকারী যাত্রীগন ও চালক একে অপরের মোবাইল নম্বর নিয়ে রাখবেন, যাতে বিশেষ প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে পারস্পরিক যোগাযোগ করা যায়। এ ছাড়া মুসল্লিবাহী প্রতিটি যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে চালকের নাম এবং মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান থাকতে হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ফ্লাইওভারের নিচে আবদুল্লাপুর বেইলি ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে সব যানবাহন চালকদের আজমপুর থেকে ফ্লাইওভার ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো। সড়ক দূর্ঘটনা এড়াতে জনসাধারনকে হেটে ফ্লাইওভার দিয়ে পারাপার না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। খিলক্ষেত থেকে আবদুল্লাহপুর হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তায় উভয় পাশে পার্ক করা যাবে না।
Leave a Reply