টঙ্গীতে কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান ইমন (২০) এর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পূর্ব থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে টঙ্গীর মধ্য আরিচপুরের গাজীবাড়ী এলাকা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার খারহাট গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মাে. হাসান মিয়ার ছেলে ইমন। ইমন রাজধানী উত্তরার সানরাইজ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। সে টঙ্গীর উত্তর আরিচপুর গাজীবাড়ী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো।
টঙ্গী পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক তাপস পাল উজা ইমনের মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ইমন লেখাপড়ার পাশাপাশি থানা গেইট সংলগ্ন এনা বাস কাউন্টােরর পাশে তাঁর বাবার চায়ের দোকানে কাজ করতেন। মঙ্গলবার ভোরে দোকানে কাজ শেষে বাসায় ফিরে আসে ইমন। পরে নিজ কক্ষে চলে যান। একপর্যায়ে ইমনের কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ঘরের ভেতরে যান তাঁর মা। এ সময় ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ঝুলন্ত নিথর দেহ দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকদের ডাকেন। পরে খবর পাঠালে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, ছেলেটি খুবই নম্র এবং ভদ্র ছিলো। সে কেনো আত্বহত্যা করবে ? তার এই মৃত্যুর পেছন কােন রহস্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবী করেছে স্থানীয় লােকজন।
ইমনের মা রোকসানা বেগম বলেন, প্রায়ই রাত জেগে তাঁর বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করত ইমন। মঙ্গলবার ভোরে দোকান থেকে ফিরে নিজ ঘরে চলে যায়। পরে দরজা খোলা পেয়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে ইমনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। কেনো ছেলে এমন করলো তার কোন উত্তর মেলেনি মায়ের কাছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রস্তুিত এবং তদন্ত চলছে।
Leave a Reply