কোরবানির পশুর মাংস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে বেড়েছে ফ্রিজের চাহিদা। তারওপর অধিকাংশ কোম্পানি মূল্য ছাড়, ক্যাশ ব্যাক অফারসহ বিভিন্ন অফার দিচ্ছে। শনিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম ও দোকান ঘুরে দেখা গেছে কোরবানি ঈদের প্রভাবে ফ্রিজের বিক্রি বেড়েছে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গরম ও কোরবানির ঈদে ফ্রিজের চাহিদা বাড়ে। এ সময় মানুষের হাতে বেতন ও বোনাসসহ বাড়তি কিছু টাকা আসে। ফলে তারা নিজের ঘরের জন্য একটু অতিরিক্ত খরচ করতে চায়। সে কারণে চাহিদা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত মানুষের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে ওয়ালটন এবং সিঙ্গার। এ বিষয়ে টঙ্গীর ওয়ালটন শো-রুম শাখার ম্যানেজার বলেন, ঈদ সামনে রেখে আমাদের বেশকিছু নতুন ডিজাইন উন্মোচন করা হয়েছে। কোরবানিতে ডিপ ফ্রিজের চাহিদা বেড়ে যায়। সব শ্রেণির ক্রেতার সামর্থ্য মাথায় নিয়েই আমরা পণ্য বাজারজাত করে থাকি। আশা করছি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এ শোরুমে ফ্রিজ কিনতে আসা স্থানীয এক নারী ক্রেতা জানান, বাসায় একটা ফ্রিজ আছে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বিশেষ প্রয়োজনে আরও একটা ফ্রিজ কিনলাম। ডাবলু এফ ডি ওয়ান এফ -৩ মডেলের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২ হাজার টাকা কমে ২৬ হাজার ৫০০ টাকা কমে নিলাম। এ সময় ব্র্যান্ডগুলোও ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে টঙ্গীর স্টেশন রোডের সিঙ্গির শো-রুমে বিভিন্ন্ ব্যান্ডের ফ্রিজের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। কোরবানি ঈদে এসব পণ্যের চাহিদায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
টঙ্গীর স্টেশন রোডের সিঙ্গার শো-রুমের রিপন মিয়া জানান, আমরা সিঙ্গারের ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রি করে থাকি। তবে এ ঈদে ডিপ ফ্রিজের চাহিদা বেড়েছে। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে বাজারে নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্তের বিষয়টি মাথায় রেখে বেশ কয়েকটি ডিপ ফ্রিজ বাজারে এসেছে। কিছু সুবিধা সংযুক্ত করে সম্প্রতি আমরা নতুন ফ্রিজ নিয়ে এসেছি। এ কারণে আমাদের বিক্রি ভালোই বেড়েছে। বৈশ্বিক দাম বাড়ার কারণে আমরা ফ্রিজে দাম একটু বাড়িয়েছি। তবে এ মাসে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, সে অনুযায়ী বেশ ভালো একটা গ্রোথ আছে। প্রথমদিকে মানুষ একটু বাজার পর্যবেক্ষণ করে। বিভিন্ন মার্কেট ঘোরাঘুরি করে এবং তারপর কেনে বলেও তিনি দাবী করেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ টঙ্গী এলাকায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শোরুমে গিয়ে দেখা যায় স্যামসাং, হিটাচি ও হাইসেন্সের ফ্রিজের চাহিদা রয়েছে। যদিও এসব ব্র্যান্ডের পণ্যের ক্রেতারা সাধারণত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত বেশি।
Leave a Reply