জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিমনসহ ১১ জন বরেণ্য সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে চট্টগ্রামে দায়েরকৃত মানহানি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বিএমএসএফের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য, বিএমএসএফের যুগ্ম সম্পাদক আনিসুল লিমন, ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি নাসির উদ্দীন পল্লব, সাধারণ সম্পাদ ইমতিয়াজ উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী সোহেলী পারভীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতির পরিচালক জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ।
সমাবেশে সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্য বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। যে কারণে আমরা আন্দোলন কর্মসূচী পালনে বাধ্য হচ্ছি। বিপদে পড়লে সকলেই সাংবাদিকদের কাছে আসেন। রিপোর্ট পক্ষে গেলে সাংলাদিকরা ভালো, বিপক্ষে গেলে খারাপ। বিপক্ষে গেলেই মামলা-নির্যাতন শুরু হয়। এটা কোনভাবেই সহ্য করা হবে না। স্বাধীনতার পক্ষে, শোষণের বিরুদ্ধে, সমতার জন্য সাংবাদিকদের লেখনি চলবে। কোন অপশক্তি সাংবাদিকদের সাহসী লেখনি বন্ধ করতে পারবে না। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের পাহারাদার এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দ্বায়েরকৃত মামলা আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। মিথ্যা মামলা করায় প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যত্থায় লাগাতর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে সভাপতির বক্তব্যে আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে ৫০০ উপজেলায় এক যোগে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না। তিন দিনের আল্টিমেটাম শেষে বৃহত্তর কর্মসূচী দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, কোপা শামসু ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলো। মহাজোটকে ম্যানেজ করে এখন এমপি হয়েছে। জাতীয় সংসদের হুইপও হয়েছে। ক্ষমতাকে ব্যবহার করে দুর্নীতি-লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সুনাম রক্ষায় তিনি অবিলম্বে হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেন।
২৫ আগস্ট (বুধবার) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে চলেছে। করোনা মহামারীর ভয়াল দুর্যোগেও সাংবাদিকরা হয়রানি ও নির্যাতনের ধকল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। সরকারের নতুন নতুন আইন, নির্দেশনার পাশাপাশি প্রজাতন্ত্রের একশ্রেণীর কর্মকর্তা কর্মচারীরাও ইদানিং সাংবাদিক নির্যাতনে অংশ নিচ্ছেন। এসবের কারণে সরকারের বহু ইতিবাচক পদক্ষেপও চাপা পড়ে বহিঃর্বিশ্বে কেবলই নেতিবাচক খবরাখবর ছড়িয়ে পড়ে, ক্ষুন্ন হয় দেশের ভাবমূর্তি।
বক্তারা আরও বলেন, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে মামলা করায় দেশের স্বনামধন্য সম্পাদক ও রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে এই ষড়যন্ত্র রুখে দাড়াতে হবে। তারা সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে হুইপ শামসুল হক চৌধুরী কর্তৃক দ্বায়েরকৃত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ২১আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করে আগামী তিন দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হলে লাগাতর আন্দোলন কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোরসালিন নোমানী, সাংবাদিক নেতা লায়েকুজ্জামান লায়েক, সোহেল সানী, সংগঠনের আইন উপদেষ্টা এড. কাওসার হোসাইন, সহ-সম্পাদক মিজানুর রশীদ মিজান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ আকরাম, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক আবুল হাসান বেলাল, অর্থ বিভাগের সম্পাদক শারমিন সুলতানা মিতু, উপ-প্রচার সম্পাদক দীন ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্জ্ব মাসুম বিল্লাহ, সহ-সভাপতি উজ্জ্বল ভুইয়া, যুগ্ম-সম্পদক বেলায়েন হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিন যুগ্ম-সম্পদক রাহিম কমিশনার, দৈনিক নাগরিক ভাবনা’র স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক এম.জে.এ মামুন, দৈনিক আজকের আলোকিত সকাল’র বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক আমলগির হোসেন প্রমুখ।
Leave a Reply