সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াচ্ছে তুরস্ক নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী, যাত্রাবিরতি ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে সন্ধ্যায় রাজধানীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের ৪ দিন, তার স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর : মাহদী আমিন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে : প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম অনেক কম: রিজভী

বিশ্বব্যাংকের ১.১ বিলিয়ন ডলার জরুরি ঋণ: সার ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় স্বস্তি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৩৬ বার

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন (১১০ কোটি) মার্কিন ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র চাষিদের সুরক্ষা দেয়া এবং কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ অনুমোদন করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে এই ঋণের অনুমোদন দেয়া হয়। সংস্থার বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সংকুচিত রাজস্ব খাতের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। এর বড় ধাক্কা লেগেছে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র-অসহায় মানুষের ওপর। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক আমন ও বোরো চাষের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং মানুষের জীবিকা রক্ষা করতে এই তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে।
অনুমোদিত ১.১ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে প্রধানত দুটি খাতে—
খাদ্য নিরাপত্তায় জরুরি সহায়তা প্রকল্প : এই ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) ডলারের আওতায় আগামী জুলাই-অক্টোবর ২০২৬ (আমন মৌসুম) এবং অক্টোবর ২০২৬-এপ্রিল ২০২৭ (বোরো মৌসুম) সময়ের জন্য সার আমদানি করা হবে। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় সারের ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে থাকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ লাখ মেট্রিক টন জরুরি সার আমদানি করা হবে (যার অর্ধেকই ইউরিয়া), যা দেশের ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র চাষিদের ধান উৎপাদনে সরাসরি সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার সুলেইমান কুলিবালি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ। এছাড়া দেশের অর্ধেক মানুষ কৃষিতে নিয়োজিত। ফলে সার সরবরাহে যেকোনো বিঘ্ন ঘটলে তা কেবল খাদ্য নিরাপত্তাই হুমকিতে ফেলবে না, বরং দারিদ্র্য বাড়াবে ও কর্মসংস্থান কেড়ে নেবে।
আপৎকালীন জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রকল্প : বাকি ৭১৩ মিলিয়ন (৭১ কোটি ৩০ লাখ) ডলারের বড় তহবিলটি ব্যবহার করা হবে দ্রুত অর্থ ছাড়ের জরুরি সংকটে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা ও জীবিকা নির্বাহের অনুদান। এছাড়া জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পানি সরবরাহের কাজেও এই অর্থ ব্যয় হবে। বিশ্বব্যাংকের ক্রাইসিস প্রিপেয়ার্ডনেস টুলকিটের অংশ হিসেবে বর্তমান চলমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ রি-পারপাস (পুনর্নির্ধারণ) করে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে, যা ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যেই দ্রুত ছাড় করা হবে।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিজার্ভের ওপর চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংকটের এই সময়ে বিশ্বব্যাংকের এই ১.১ বিলিয়ন ডলারের বড় প্যাকেজ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তি দেবে। বিশেষ করে কৃষি খাতের উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে দেশ, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ভূমিকা রাখবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories