মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ৪০ বার

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন (৪৫ কোটি) ইউএস ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে এই অর্থায়ন করা হচ্ছে।
(২৪ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস।
গত বুধবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’-এর আওতায় এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষাব্যবস্থা’ জোরদার করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও পদ্ধতি গড়ে তোলা।
এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার এবং ব্যাংক রেজল্যুশনের ভিত্তি তৈরি করবে এই প্রকল্প। এটি আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়িয়ে এর সক্ষমতা বাড়াবে। পাশাপাশি জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা এবং বেআইনি ঋণ প্রদানের কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষ নাগাদ দেশে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ব্যাংকের গড় হারের (৭ দশমিক ৯ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো ব্যাংক খাতে ঝুঁকি-ভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ‌‌বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাংক খাত-যা মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ-বর্তমানে তীব্র চাপের মুখোমুখি।
তিনি আরো বলেন, ‌এই প্রকল্পটি ছোট আমানতকারীদের রক্ষা করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এটি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories