ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী লালন, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, হলফনামায় তথ্য জালিয়াতি এবং প্রতিবাদের কারণে হত্যার ষড়যন্ত্র করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সমমনা গণতান্ত্রিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী এবং বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।
মুহাম্মদ সাইদুর রহমান আশির দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১/১১-এর সংকটকালীন সময়ে জিয়া পরিবারের পক্ষে জনমত গঠন এবং ২০২৪ সালের ২৪ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে থেকে ভূমিকা পালনকারী একজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহ-৮ আসনের এমপি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু একজন দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক মাফিয়া সিন্ডিকেটের সদস্য। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকলেও তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী উপজেলার সর্বত্র, বিশেষ করে আঠারোবাড়ী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ জনগণের ওপর অত্যাচারের চালাচ্ছে। এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অত্যাচার থেকে বিএনপির সাধারণ ভোটাররাও রেহাই পাচ্ছেন না। অথচ এমপি মাজেদ বাবু তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো আশ্রয়-প্রশ্রয় ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন মুহাম্মদ সাইদুর রহমান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকার সন্তান হিসেবে এই অন্যায় ও অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় এমপি মাজেদ বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন। এর জের ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের মানহানিকর কুৎসা রটনা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এমপি মাজেদ বাবু তাকে হত্যার জন্য কিলার (ভাড়াটে খুনি) ভাড়া করেছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি মাজেদ বাবুর নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামার অসঙ্গতি তুলে ধরে বলা হয়, ২০০৮ সালের হলফনামায় তিনি তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাস দেখিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ২০১৮ সালের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য পরিবর্তন করাসহ বিভিন্ন নথিতে নানা রকমের অসঙ্গতি ও গরিমিল পরিলক্ষিত হয়, যা স্পষ্ট জালিয়াতি।
সাবেক স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি পাতানো নির্বাচনের দিন পল্টনের রাজপথে প্রথম বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুহাম্মদ সাইদুর রহমান তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঈশ্বরগঞ্জের সাধারণ মানুষকে এই মাফিয়া সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
Leave a Reply