বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীর স্টেশন রোডে মাইশা হাসপাতালে আবারো রোগীর মৃত্যু !! টাকার বিনিময়ে দফারফা চিহ্নিত দালাল চক্রের হাতে জিম্মি টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতাল সারা দেশে উদ্যোক্তা বিপ্লবের লক্ষ্যে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি’ গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত আরো এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা জব্দ ইরানি জাহাজের ৬ ক্রুকে ছেড়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নতুন প্রস্তাবের যে বিষয়টিতে ট্রাম্পের আপত্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা ও গুমসহ ১৮৫৫টি মামলা দায়ের: আইনমন্ত্রী

টঙ্গীর স্টেশন রোডে মাইশা হাসপাতালে আবারো রোগীর মৃত্যু !! টাকার বিনিময়ে দফারফা

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ১৬ বার

টঙ্গীর স্টেশন রোডে মাইশা হাসপাতালে সাধারণ নারী রোগীর আবারো মৃত্যু ! টাকার বিনিময়ে দফারফা করলেন কর্তৃপক্ষ। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা টাকার বিনিময়ে দফারফা করার পেছনে কারা ? বার বার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা সিভিল সার্জনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা কি থেকে যাবে অধরায় প্রশ্ন এলাকাবাসীর।
বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গীতে বেসরকারি মাইশা জেনারেল হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অপারেশনের পর সেলিনা খাতুন (২১) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অপারেশনের পর জ্ঞান না ফেরার পর মৃত্যুর ঘটনায় আর্থিক সমঝোতার দাবিও করা হয়েছে। সেলিনা খাতুন টঙ্গীর গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা মোক্তার হোসেনের মেয়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে সেলিনাকে টঙ্গী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ আহসানউল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালের বিপরীতে স্টেশন রোডের মাইশা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জরায়ুতে টিউমার রয়েছে জানিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।
স্বজনদের অভিযোগ, বিকেল চারটার দিকে চিকিৎসক ডা. মো. মনির হোসেন এবং অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হাসপাতালটির মালিক ডা. মতিউর রহমান অস্ত্রোপচার করেন। অপারেশনের পর সেলিনার আর জ্ঞান ফেরেনি বলে দাবি পরিবারের।
সেলিনার বাবা মোক্তার হোসেন বলেন, আমার মেয়ের অপারেশন করার পর আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে এলাকার কিছু মানুষের অনুরোধে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেছি।
ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষ বসে একটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে বিষয়টি আপোষ করেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর আগেও মাইশা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একটি অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় কেন আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে না। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না থাকলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া উচিত। বার বার হাসপাতালটিতে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত।
ঘটনার বিষয়ে জানতে হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের মালিক ডা. মতিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি শুনিনি, কেউ অভিযোগও করেনি। হাসপাতালের কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাইশা হাসপাতালের কাগজপত্র ৩০ জুন পর্যন্ত বৈধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে আগামীকাল অফিসে ডাকা হয়েছে।
সেলিনা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং পরিবারের অভিযোগের সত্যতা উদ্‌ঘাটনে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা সিভিল সার্জনসহ কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories