ভারতে পাচারের আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ কার্যালয়ে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, টিএফআই সেলের নির্যাতনকক্ষ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সরাসরি দেখানোর জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিদের সেখানে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই পরিদর্শন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মেমোরেন্ডাম আদালতে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে আয়নাঘর-সংক্রান্ত আলামত নষ্ট করার অভিযোগে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, টিএফআই সেল নামে কোনো স্থাপনা নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে র্যাবের সম্পৃক্ততাও নেই।
এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম এবং টিএফআই সেল-সংক্রান্ত গুমের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন। সকাল সাড়ে ১০টার পর তারা উত্তরায় র্যাব-১ কার্যালয়ে পৌঁছান।
টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সময়ে তারা র্যাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, মো. হারুন অর রশিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ টিএফআই সেল পরিদর্শনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
Leave a Reply