বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীর স্টেশন রোডে মাইশা হাসপাতালে আবারো রোগীর মৃত্যু !! টাকার বিনিময়ে দফারফা চিহ্নিত দালাল চক্রের হাতে জিম্মি টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতাল সারা দেশে উদ্যোক্তা বিপ্লবের লক্ষ্যে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি’ গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত আরো এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা জব্দ ইরানি জাহাজের ৬ ক্রুকে ছেড়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নতুন প্রস্তাবের যে বিষয়টিতে ট্রাম্পের আপত্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর হত্যা ও গুমসহ ১৮৫৫টি মামলা দায়ের: আইনমন্ত্রী

চিহ্নিত দালাল চক্রের হাতে জিম্মি টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতাল

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ৩১ বার

শিল্পাঞ্চল খ্যাত টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা স্থানীয় দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছেন। দালাল সরদার মো. ইউনুছ আলী মিন্টু ও ফয়সাল বাবুসহ ৬/৭ জনরে নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র নানা কৌশলে রোগীদের প্রভাবিত করে হাসপাতাল অভ্যন্তরে রাখা প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্সে করে উত্তরার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালসহ টঙ্গীর ষ্টেশন রোডের বিভিন্নি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভাগিয়ে নিয়ে মোটা অংকের বিল রোগীদের হাতে ধরিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়ছে। এসব দালালগন নিজেদের র্মাকিটেং অফিসার বা বিক্রয় কর্মকর্তা দাবী করলেও হাসপাতালের কতিপয় ডাক্তার, ব্রাদার, সরকারী এ্যাম্বুলন্সে চালক এবং আউট সোসিং কর্মচারীেদর সহায়তায় এসব দালালচক্র সক্রিয় বলে একাধকি সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতালরে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সেবা পাওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতালে ছুটে এলেও দালাল চক্রের খপ্পড়ে পড়ে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে প্রায়ই অধিকাংশ রোগীর অভিভাবক ও দালালদের মধ্যে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটছে। টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও গাজীপুর সিভিল সার্জনের গাফিলতির কারণে এসব ঘটনা ঘটছে বলে রোগীদের অভিযোগ।
এসব দালালরা প্রায় ২৪ ঘণ্টাই হাসপাতালের মুল ফটক ও অভ্যন্তরে ডাক্তারদের সাথে বসে থাকে এবং কোন রোগী আসতে দেখলেই দালাল চক্রের সদস্যরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে ও টানাটানি করতে থাকে। এসব বিষয়ে রোগীরা ইতিপূর্বে টঙ্গী থানায় অভিযোগ দিলেও সুষ্ট কোন সমাধান বা সুরাহা হয়ন। তাছাড়াও বিভিন্ন দালালদের পক্ষ হয়ে রাজধানী উত্তরার কথিত প্রভাবশালী হাসপাতাল মালিক বা কর্মচারী কিংবা সাংবাদিক পরিচয়ে কতপিয় ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে দালালদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে থাক। এছাড়াও এসব দালালদের অধিকাংশ টঙ্গী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার ও হাসপাতাল অভ্যন্তরে বসে মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে। যেসব হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নেয়া হয়-উত্তরার রিজেন্ট  হাসপাতাল, জাপান শিন শিন, আইচি হাসপাতাল, ক্রিসেন্ট, জাহানারাসহ টঙ্গীর মাইশা হাসপাতাল, সন্ধানী ডায়াগনষ্টিক, ডক্টরস প্যাথলজি, ফাতেমা জেনারেল ইত্যাদি।

টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্রের সদস্যরা হলেন- ইউনুছ আলী মিন্টু (৪০), ফয়সাল বাবু (৩৫),  মো. মিনহাজ উদ্দিন (৪০), তানিয়া আক্তার (৪৫), শাহানাজ আক্তার (৪০)।
দালাল সরদার ইউনুছ আলী মিন্টু সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে বলে স্থানীয়রা জানান। যদিও রহস্যজনক কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন প্রকার মুখ খুলতে রাজি নয়। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা সিভিল সার্জন নিবিড় সুষ্ট নিরপেক্ষ তদন্ত করলে দালাল চক্রের আদ্যপ্রান্ত বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা স্থানীয় বোদ্ধা মহলের।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডাক্তার ও নার্স জানান, ‘টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কতিপয় অসাধু ডাক্তারের যোজসাজশে ইউনুছ আলী মিন্টুর নেতৃত্বে ফয়সাল বাবু ও  মিনহাজ উদ্দিন রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। মিন্টর কোন রাজনৈতিক খুটির জোর না থাকলেও মিন্টু ও ফয়সাল বাবু স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের পরচিয় ও কতপিয় পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের জিম্মি করে ফায়দা লুটছে। এসব দালালদের বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে এবং হবে।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইউনুছ আলী মিন্টু রোগী হয়রানি ও হাসপাতাল এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে যারা ভালো চিকিৎসা পায় না তাদেরকে ভালো চিকিৎসার জন্য উত্তরার হাসপাতালে পাঠাই। আমরা সেখানে মাের্কিটং অফিসার পদে চাকুরি করি। দরিদ্র রোগীদের সহযোগীতা করি এটা কি আমাদের অন্যায়। যদি অন্যায় হয়ে থাকে তবে কিছু করার নেই।
মিনহাজুল নিজেকে প্রভাবশালী একজন নেতার সহকর্মী পরচিয় দিয় বলেন, মিন্টু, বাবুসহ ৬/৭ জন যেদিন থেকে হাসপাতালের সবকিছু দখল করছেে সেদিন থেকে আমি র্কমচারী হিসেবে কাজ করছি। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ সবাই জানে। তারপরও কেউ কিছু লিখলে লিখুক সমস্যা কি ? আমরা দালাল নই, কোম্পানীর মার্কেটং কর্মকর্তা হিসেব কাজ করি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার বলেন, দালালদের এমন দৌরাত্বের বিষয়ে ইতিপূর্বে গাজীপুর সিভিল সার্জনকে অবগত করা হয়েছে। কিছু অসাধু দালালচক্র ব্যক্তি স্বার্থে উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে থাকে বলে অভিযোগ পেয়েছি। বহিরাগত দালালদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories