ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নাগরিককে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শাহাদাৎ নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার গ্রেপ্তার বা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোম শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হৃদয়নগর এলাকার লন্ডনফেরত সিরাজ মিয়ার ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৫০), তার স্ত্রী হোসনে জাহান মমতাজ ওরফে আরজু (৪০) এবং তাদের কন্যা আরিশা। হামলায় গুরুতর আহত হন তাদের ২০ বছর বয়সী ছেলে অয়ন, যিনি বর্তমানে ইতালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং আশঙ্কামুক্ত।
জানা গেছে, কামাল উদ্দিন বাবুল প্রায় ১২ বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমান। পরে ৪-৫ বছর আগে স্ত্রী-সন্তানদেরও সেখানে নিয়ে যান। পরিবারের সবাই রোমেই বসবাস করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাবা, মা ও মেয়ে নিহত হয়। আহত অয়ন প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইলে হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও কারাবিনিয়ারি বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহত অয়নকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাদাৎ নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় বা সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ইতালীয় কর্তৃপক্ষও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দূতাবাসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিহত তিনজনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দূতাবাস কাজ করছে বলেও তারা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আহত অয়নের চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও দূতাবাস খোঁজখবর রাখছে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে হত্যার প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বপরিকল্পিত হামলা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে—সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় ইতালীয় কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply