জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। সম্প্রতি তারা প্রায় ২০০ জন ব্যবহারকারীকে সতর্ক করেছে, যারা না জেনে একটি ভুয়া অ্যাপ ইনস্টল করেছিলেন যার ভেতরে লুকানো ছিল স্পাইওয়্যার বা গুপ্তচর সফটওয়্যার। হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, এই ভুয়া অ্যাপটি তৈরি করেছে ইতালির স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসআইও। বিশেষ করে আইফোন ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে তৈরি করা হয়েছিল এই ক্ষতিকর অ্যাপটি।
হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, তাদের সিকিউরিটি টিম আগেভাগেই বিষয়টি শনাক্ত করে এবং সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের লগ আউট করে দেয়। পাশাপাশি তাদের সতর্ক করা হয় ভুয়া বা অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে। ব্যবহারকারীদের অফিসিয়াল অ্যাপ ডাউনলোড করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপের মুখপাত্র মার্গারিটা ফ্র্যাঙ্কলিন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সাংবাদিক বা সামাজিক কর্মী ছিলেন কিনা তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষাই এখন তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এই ঘটনার পর হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, তারা এসআইও-এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও এসআইও ভুয়া অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমে ‘স্প্যার্টাকাস’ নামের স্পাইওয়্যার ছড়ানোর অভিযোগে আলোচনায় আসে। শুধু হোয়াটসঅ্যাপ নয়, মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার টুলের ছদ্মবেশেও এই ধরনের অ্যাপ তৈরি করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়া অ্যাপ ব্যবহার করে নজরদারি চালানো এখন অনেক দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি পরিচিত কৌশল। অনেক সময় মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমেই ব্যবহারকারীদের কাছে ফিশিং লিংক পাঠানো হয়। এর আগে গত বছরও হোয়াটসঅ্যাপ প্রায় ৯০ জন ব্যবহারকারীকে সতর্ক করেছিল, যাদের ওপর স্পাইওয়্যার হামলা চালানো হয়েছিল প্যারাগন সলিউশনের মাধ্যমে। তখন বিষয়টি ইতালিতে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছিল।
নিরাপদ থাকতে অপরিচিত সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। কারণ, একটি ভুল ক্লিকই আপনার ব্যক্তিগত তথ্যকে করে তুলতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ।
Leave a Reply