মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

১২ দিনের সংঘাতে নিহত হয় ১৬ জনের বেশি ইসরায়েলি পাইলট: খামেনেয়ির সামরিক উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম-সাফাভি বলেছেন, ইহুদিবাদী সরকারের ইরানের ওপর শুরু করা আক্রমণ এবং এরপর তেহরানের প্রতিক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট ১২ দিনের সংঘাতে ১৬ জনেরও বেশি ইসরায়েলি পাইলট নিহত হয়েছেন।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের এই জেনারেল বলেন, ‘সংঘাতের প্রথম দিকে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষায় এবং গোয়েন্দা ক্ষেত্রে দুর্বলতা প্রকাশ পেলেও এখন সেগুলো মরামত ও পুনর্গঠনের অধীনে রয়েছে।’
যুদ্ধের প্রথম দুই-তিন দিনে ইরানের কিছু ত্রুটি ছিল বলে উল্লেখ করে রহিম-সাফাভি বলেন, ‘চতুর্থ দিন থেকে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যায় এবং শেষ পর্যায়ে ইরান পূর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করে।’ বিদেশি মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় অধিকাংশের মূল্যায়নে ইরানকে যুদ্ধের বিজয়ী হিসেবে নিশ্চিত করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসরায়েল তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করেছে তেহরান। শত্রুর কমান্ড-এন্ড-কন্ট্রোল সেন্টার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং টার্মিনালগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে তারা।
সংঘাতের সময়ে ইসরায়েলের ৬০০-৬৪০ টিরও বেশি বিমান-প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ মারাত্মকভাবে শূন্য হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
সাফাভি আরও বলেন, ‘ইরান বর্তমানে মহাকাশ সরঞ্জাম পুনর্নির্মাণ করছে এবং তার শক্তি বৃদ্ধি করছে। বিমান-প্রতিরক্ষা, রাডার সিস্টেম, ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্র এবং কিছু বিমান বাহিনীর ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে নতুন কমান্ডার নিয়োগ এবং পুনর্গঠনের সাথে সাথে ক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।’ এরপর এমন হামলার পুনরাবৃত্তি হলে তেহরান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তির সঙ্গে প্রতিশোধ নেবে বলে ইসরায়েলকে সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে চলতি বছরের ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে এক অপ্রীতিকর আগ্রাসন শুরু করে। আর এর ফলে সংঘাত শুরু হয় এবং এটি ১২ দিন দীর্ঘস্থায়ী হয়। ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কমপক্ষে এক হাজার ৬৪ জন মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন।
সংঘাতের শেষ দিকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করে’ তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং তারা এ সংঘাতে যুক্ত হয়। প্রতিক্রিয়ায়, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দখলকৃত অঞ্চলজুড়ে কৌশলগত স্থানগুলোর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে হামলা চালায়। পরে ২৪ জুন উভয়ের সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories