সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ন

বাগেরহাটে করোনায় স্বামীর মৃত্যু, ১৪ দিনেও জানানো হয়নি স্ত্রীকে

জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
  • ১০৪ বার

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাদল কর্মকার (৪০) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন গত ২৯ জুন। ওই দিন বরিশাল মহাশ্মশানে তার সৎকার করা হয়েছে। এরপর ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও তার স্ত্রী সীমা কর্মকার (২৭) জানেন না তার স্বামীর মৃত্যুর খবর।

তিনি অপেক্ষায় আছেন স্বামী সুস্থ হলেই বাড়ি চলে আসবেন। বাদল কর্মকারের স্ত্রী সীমার ভাইয়েরা দুই-এক দিনের মধ্যে বরিশাল থেকে এসে জানাবেন বাদল চলে গেছেন না ফেরার দেশে।এলাকাবাসীরা জানান, জুন মাসের ২য় সপ্তাহে বাদল কর্মকারের পরিবারের সবাই করোনায় আক্রান্ত হয়। কিন্তু সামান্য সর্দি, কাশি ও জ্বরকে তারা গুরুত্ব দেয়নি। এর মধ্যে বেশ কিছুদিন পার হলে বাদলের শ্বাস কষ্ট বেড়ে যায়। অসুস্থ বেশি হলে তারা সবাই গত ২৪ জুন শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করান। 

তবে রেপিট এন্টিজেন্ট নমুনা পরীক্ষায় বাদলের নেগেটিভ এবং তার স্ত্রী সন্তানের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। কিন্তু বাসায় বাদলের অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। খবর পেয়ে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন একদিন পরে এম্বুলেন্সে করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে করোনা পরীক্ষায় তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

ততোক্ষণে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে ওই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ জুন বাদলের মৃত্যু হয়। ওই দিনই তাকে বরিশাল মহাশশানে সৎকার করা হয়। 

বাদলের শ্যালক উজ্জল কর্মকার মোবাইল ফোনে জানান, তার বোন সীমা কর্মকার ও ভাগ্নে সুর্য্য কর্মকারের করোনা পজিটিভ থাকার কারণে তাদের এখনো বাদলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। সোমবার সকালে তাদের পুনরায় করোনা পরীক্ষার নমুনা দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে জানানো হবে বাদল কর্মকারের মৃত্যু খবর।

শরণখোলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন জানান, রেপিট এন্টিজেন্ট টেস্টের রিপোর্ট প্রায় ৬০ ভাগ সঠিক পাওয়া যায়। যার কারণে বাদল কর্মকারের রিপোর্ট পজিটিভ আসেনি। পরে সিসিআর টেস্টে পজিটিভ আসে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories