কেভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে এক সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে গোটা বিশ্ব। দেশে এ ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধের প্রয়োজনে সরকার কর্তৃক সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এর প্রভাবে দেশে বন্ধ রয়েছে সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এই মানুষ গড়ার কারখানা হিসেবে পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় এগুলো বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে।
পাশাপাশি খেলার মাঠগুলো পরিণত হয়েছে গোচারণ ভূমিতে। করোনার কারনে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তষ্কর প্রকৃতির লোকজন ও বখাটেদের মাদক সেবনের অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে।
কোন কোন স্কুল ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সরজমিনে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে রাখা হয়েছে বালু, ক্লাসরুমে রাখা হয়েছে সিমেন্ট, কাঠ-বাঁশ, রড় ইত্যাদি। নুরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দেখা যায় ধানের মৌসুমে শুকানো হয়েছে খড়কুটা।
এলাকার মধ্যবয়স্ক তরুণরা মিলে চলে ফুটবল খেলা। শায়েস্তাগঞ্জে উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা যায়, সুনসান নীরবতা। মাঠের ঘাসগুলো বেড়ে উঠেছে, সেখানে আপন মনে তৃণ ভোজনে ব্যস্ত গরু ছাগল। কোথাও নেই কেউ, উড়ছে না জাতীয় পতাকা। শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও একই অবস্থা। নির্মাণ সামগ্রী পড়ে আছেসারা স্কুলজুড়ে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গায় ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী রাখা। নির্মাণ শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থাও ক্লাস রুমেই। শায়েস্তাগঞ্জ মডেল কামিল মাদ্রাসায় ঘুরে ও একই চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘদিন মাদ্রাসার বেঞ্চগুলো ব্যবহৃত না হওয়ায় বালির স্তর পড়ে গেছে। অনেকেই আবার গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করছেন মাঠ। অন্যদিকে, বেশিরভাগ স্কুলেই দেখা গেছে শহিদমিনারে ও জমে আছে ধুলো ময়লা। স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শহিদ মিনারের ও পরিচর্যা করা হয়নি। জাতীয় উৎসবগুলো এলেই কেবল শহিদমিনারের কদর মিলে, বাকি দিনগুলো অনাদরেই থাকতে হয়। আর এখনতো প্রতিষ্ঠানই বন্ধ কে নিবে শহিদমিনারের খোঁজ? উপজেলার স্কুলগুলোতে দপ্তরিরাও ও আছেন আয়েশে। নজর পড়েনা স্কুলের বারান্দার দিকেও। একই চিত্র উপজেলার ২৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। কোথাও গরু চরানো হচ্ছে আবার কোথাও ধান শুকানো। কোথাও কোথাও আবার রাতে বসে জুয়ার আড্ডা, চলে নিরাপদে বসে মাদক সেবন। এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী বলেন দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে লোকজন স্কুলের মাঠ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। তবে স্কুল খোলার নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই স্কুলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। ইতোমধ্যেই স্কুলে হাত ধোয়ার বেসিন, স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুজিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, মাঠে ধান শুকানো বা খড় শুকানো হচ্ছে সুযোগের অপব্যবহার। ক্লাস রুমে নির্মাণ সামগ্রী আর শ্রমিকের বাসস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ক্লাস রুম পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করবো। স্কুল শুরু হওয়ার পূর্বেই প্রতিষ্ঠান তার আগের পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
Leave a Reply