প্রবাসীদের দোরগোড়ায় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিতে মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে ফুভাহমুলাহ্ দ্বীপে বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। গত ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে প্রায় ১০০টি ই-পাসপোর্ট ও ২৮টি বিএমইটি কার্ডের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে প্রদানের পাশাপাশি তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল ক্যাম্প পরিচালনা করে।
দূরবর্তী ফুভাহমুলাহ্ দ্বীপে সরাসরি কনস্যুলার সেবা পাওয়ায় স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের রাজধানী মালে গিয়ে সেবা নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। এতে বিমানভাড়া, মালে অবস্থানকালে থাকা-খাওয়া, স্থানীয় যাতায়াতসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি তাদের মূল্যবান সময়ও বেঁচেছে।
মালে থেকে ফুভাহমুলাহ্ দ্বীপে বিমানে যেতে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় লাগে। যাওয়া-আসার বিমানভাড়া প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশি টাকা। এর সঙ্গে মালে অবস্থানকালীন থাকা-খাওয়া ও স্থানীয় যাতায়াতের খরচ যুক্ত হয়। ফলে বিশেষ করে স্বল্প আয়ের প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য রাজধানীতে গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
ক্যাম্পে সেবা নিতে আসা বাংলাদেশি প্রবাসীরা হাইকমিশনের এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা ভবিষ্যতে ফুভাহমুলাহ্ এবং মালদ্বীপের অন্যান্য দূরবর্তী দ্বীপেও নিয়মিত এ ধরনের কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজনের অনুরোধ জানান।
হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ হাইকমিশনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রবাসীদের যেন প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা নিতে অযথা সময়, অর্থ ও কর্মঘণ্টা ব্যয় করে রাজধানী মালে আসতে না হয়, সে লক্ষ্যেই হাইকমিশন কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে বসবাসরত স্বল্প আয়ের প্রবাসীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
হাইকমিশনার আরও বলেন, মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের কষ্টার্জিত আয় পরিবারের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা সহজলভ্য করা শুধু কনস্যুলার দায়িত্ব নয়, এটি প্রবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের অংশ।
তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নির্দেশনা ও সহযোগিতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন মালদ্বীপে প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। কনস্যুলার সেবা আরও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে দিয়ে সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে।
হাইকমিশনার বলেন, “প্রবাসীদের কল্যাণ আমাদের কাছে কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়-এটি মানবিক দায়িত্বও। একজন প্রবাসী শ্রমিকের সময়, অর্থ, কর্মঘণ্টা ও ব্যক্তিগত অসুবিধার মূল্য রয়েছে। তাই যতটা সম্ভব তাদের কাছে গিয়ে সেবা প্রদান করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির আলোকে ভবিষ্যতেও মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে প্রয়োজন অনুযায়ী ই-পাসপোর্ট, বিএমইটি নিবন্ধন, কল্যাণমূলক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
হাইকমিশন মনে করে, দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে নিয়মিত কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজনের ফলে একদিকে যেমন প্রবাসীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্র ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগও আরও সুদৃঢ় হবে। একইসঙ্গে এটি মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের বাস্তব উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ ও ফুভাহমুলাহ্ দ্বীপের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের সেবা ও কল্যাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে হাইকমিশন।
Leave a Reply