সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, যেসব প্রবাসী ও দর্শনার্থী প্রবেশ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা, ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সৌদি আরব থেকে বহিষ্কারের শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইনি জটিলতা এড়াতে সব দর্শনার্থী ও প্রবাসীকে ভিসার শর্তাবলি মেনে চলতে হবে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সৌদি আরব ত্যাগ করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দেশের অভিবাসন আইন, শ্রম আইন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য দিতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ধরনের অভিযোগ জানাতে মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ৯১১ নম্বরে এবং সৌদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, জনগণের সহযোগিতায় দেশজুড়ে বসবাস, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা–সংক্রান্ত আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রবাসী ও দর্শনার্থীদের নিয়মিত ভিসার বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। ভিসার অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশ ত্যাগ করলে জরিমানা, কারাদণ্ড, বহিষ্কারসহ অন্যান্য আইনি শাস্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
মানবপাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বাংলাদেশি
ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো ফেডারেল আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আল-মামুন এবং তার দুই সহযোগী মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮) দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকো হয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তা করতেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আল-মামুন ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অভিবাসীদের আশ্রয় ও যাত্রার ব্যবস্থা করতেন। মোহাম্মদ মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় তাদের রাখতেন এবং মন্টেরেতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। পরে মোক্তার হোসেন মন্টেরেতে তাদের আশ্রয় দিয়ে রিও গ্র্যান্ডে নদী পেরিয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। এ ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রাকালে অনেক অভিবাসী বিপদের মুখে পড়েন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে অবস্থানরত দালালদের কাছে অনেক অভিবাসী কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করেছিলেন। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে আল-মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন দোষ স্বীকার করে প্রত্যেকে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছেন।
আল-মামুনের বিরুদ্ধে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা, এ কাজে ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্থা এবং ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ব্রাজিল থেকে আল-মামুনকে প্রত্যর্পণে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তবে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এটি একটি অভিযোগপত্র মাত্র। আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
Leave a Reply