বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে সহযোগিতা করার জন্য: প্রধানমন্ত্রী বন্যা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ফেইসবুকে জন্ম নিল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ সংসদ ভবন এলাকায় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ সরকার জনগণের নিরাপত্তায় ব্যর্থ, লক্ষণ খুব ভালো নয়: জামায়াত আমির সায়েন্সল্যাব ছেড়ে শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, পথে পুলিশি বাধা মার্কিন অত্যাধুনিক ‘লুকাস’ ড্রোন ভূপাতিত করলো ইরান লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করায় নাতি গ্রেপ্তার

ফেইসবুকে জন্ম নিল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ বার

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কথিত এক বক্তব্যের জেরে তার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে জন্ম নিয়েছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’।
এখন পর্যন্ত এটি একটি ফেইসবুক পেইজ। আনুষ্ঠানিক কোনো সাংগঠনিক আকার এই ‘পার্টি’ পায়নি। তবে অনেকেই এ পেইজের সঙ্গে ভারতের শাসকদের ভীত কাঁপিয়ে দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মিল দেখছেন।
টানা ভারি বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেইজ থেকে দিনভর সেই আন্দোলনের ‘আপডেট’ দেওয়া হয়েছে এবং ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।
সোমবার মধ্যরাতে ব্যাক্তিগত ব্লগের ক্যাটাগরিতে খোলা এই পেইজে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো ফলোয়ার ছিল। সন্ধ্যা ৬টায় তা ১৮ শ ছাড়িয়ে যেতে দেখা যায়।
দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের স্লোগানেও ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দবন্ধটি ঘুরে ফিরে এসেছে। ‘তুমি কে, আমি কে/ ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে/ শিক্ষামন্ত্রী’–শিক্ষার্থীদের মুখের এমন স্লোগান শোনা গেছে উত্তরা থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পর্যন্ত।
কোত্থেকে এল এই স্লোগান? ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামটিইবা কোথা থেকে এল ?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও টেপ ছড়িয়েছে, যেখানে একজন নারীর সঙ্গে একজন পুরুষকে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে পুরুষটি কথা বলে যাচ্ছিলেন এবং নারীটি তাকে বার বার ‘স্যার’ ‘স্যার’ বলছিলেন।
এক পর্যায়ে পুরুষকণ্ঠে বলতে শোনা যায়, আমি এভাবে মিটিংয়ে বলতেছিলাম যে, এরা (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) তো ফার্মের মুরগি, কিন্তু মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে, আমার মেয়ের তাই হয়। তো আমি বললাম যে, দৌড়-লাফ ঝাঁপ দিয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে, বৃষ্টির মধ্যে মাথায় পানি পড়বে, পরের দিন ঠিকঠাক পরীক্ষা দিতে পারবে না। তারপরে আবার ওয়েদার ব্রডকাস্টিং সেন্টারে ডিজিকে কল করল। তারা বলল যে কালকে বৃষ্টি হবে না, আজকে রাতেই শেষ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পুরুষ কণ্ঠটি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখতে পারেনি। এ বিষয়ে কথা বলতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
তবে সারা দিনের পরিস্থিতি থেকে এটা স্পষ্ট, শিক্ষামন্ত্রীর ওই কথিত মন্তব্যের প্রতিবাদেই ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেইজটির জন্ম। পেইজের বায়োতে লেখা হয়েছে, “আমরা অপমানিত হইনি, জাগ্রত হয়েছি।
এর আগে গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করার পর এর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ সূচনা হয়।
ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নামকে ট্রল করে গড়ে ওঠা ওই প্ল্যাটফরম কয়েকদিনের মধ্যে লাখো অনুসারী জুটিয়ে নেয়।
বাংলাদেশে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র পেছনে কারা আছে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও ফলোয়ারের তালিকায় এনসিপির কয়েকটি আঞ্চলিক শাখা এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির ভেরিফায়েড পেইজের নাম দেখা গেছে।
পেইজের একটি পোস্টে শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, জনাব মিলন সাহেব, এই ‘ফার্মের মুরগীরা’ রাস্তায় না নামলে আপনার মতো ওয়াটারমিলনের আজ মন্ত্রী হওয়া হতো না। আপনি আপনার ওই চেয়ারের সম্মানটুকু ধরে রাখতে টোটালি ব্যর্থ। তাই হাঙ্কিপাঙ্কি বাদ দিয়ে সসম্মানে গদি থেকে নেমে যান।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও শিক্ষামন্ত্রী মিলনের পদত্যাগ দাবি করছেন।
সায়েন্সল্যাবরেটরি এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মহসিন শেখ বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেনি। তাই আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।
বিএএফ শাহীন কলেজের এক পরীক্ষার্থী বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে। উনি অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ। উনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।
পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে যখন গতকাল সমালোচনা চলছে, তখন একটা ভিডিওতে দেখলাম উনি টেলিফোনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বলে সম্বোধন করছেন। উনি কেন আমাদের ফার্মের মুরগি বলবেন? উনার এ বক্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories