বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে সহযোগিতা করার জন্য: প্রধানমন্ত্রী বন্যা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ফেইসবুকে জন্ম নিল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ সংসদ ভবন এলাকায় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ সরকার জনগণের নিরাপত্তায় ব্যর্থ, লক্ষণ খুব ভালো নয়: জামায়াত আমির সায়েন্সল্যাব ছেড়ে শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, পথে পুলিশি বাধা মার্কিন অত্যাধুনিক ‘লুকাস’ ড্রোন ভূপাতিত করলো ইরান লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করায় নাতি গ্রেপ্তার

বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার

পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলেও, বর্তমানে অনেক এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্য, কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী জানান, দেশের সাতটি জেলা ও সিলেটসহ মোট আটটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১টি পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্পিডবোট ও রাবার বোট পাঠানো হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর মহাসড়ক ও সড়ক মেরামত করবে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে।
গ্রামীণ কাঁচা সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুর্গত এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রাখা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
এ সময় ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের এই বন্যা চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
আসাদুল হাবিব দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি বুধবার থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করবেন। এদিনই তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories