একতরফা চুক্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য এবার বড় মূল্য দিতে হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আমরা আগেই বলেছিলাম—প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, নইলে এর মূল্য দিতে হবে। বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে।
গালিবাফের পোস্টের সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের একটি ছবি যুক্ত ছিল। ওই অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে, যেখানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এই অংশটি বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়।
এদিকে ইরানে তৃতীয় দফার হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে রোববার (১২ জুলাই) দেশটির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে এই হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের আসালুয়েহ ও বন্দর-ই-দায়ের এলাকার বাসিন্দারা কয়েকটি বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনেছেন। বুশেহর প্রদেশের বন্দর-ই-দায়েরে পাঁচটি এবং আসালুয়েহে চারটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বন্দরনগরী আব্বাস ও সিরিকে তিনটি করে এবং বন্দরনগরী চাবাহারে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণের হরমুজগান প্রদেশের বন্দরনগরী জাসকে ১০টির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণের পর পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানও। কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে একাধিক দফায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এসব হামলায় সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে সংস্থাটি।
Leave a Reply